জাতীয় সিটিজেন পার্টির সমাবেশকারী নাহিদ ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়কারী নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি ১৩ই পার্লামেন্টারি নির্বাচনের আগে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে শো-কার্স নোটিশ পেয়েছিলেন। আজ দুপুর প্রায় ২ টার দিকে দুজনই লিখিত জবাব দাখিল করেন, যা রিটার্নিং অফিসারকে সরবরাহ করা হয়।
শো-কার্স নোটিশগুলো রিটার্নিং অফিসার এবং ঢাকা ডিভিশনাল কমিশনার শরাফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়। নোটিশে উভয় নেতার কাছ থেকে তাদের কাজের ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তি না দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়।
দুপুরের প্রথম ভাগে নাহিদ ইসলাম তার জবাব জমা দেন, এরপর পাটওয়ারি তার উত্তর দাখিল করেন। উভয় নেতার প্রতিনিধিরা রিটার্নিং অফিসারকে লিখিত নথি হস্তান্তর করেন। জবাবে তারা শো-কার্স নোটিশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি মানতে প্রতিশ্রুতি দেন।
রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরের কর্মকর্তারা এই বিষয়টি দৈনিক স্টারকে জানিয়ে দেন, তবে রিটার্নিং অফিসার নিজে কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য করেননি। কর্মকর্তারা জানান, নোটিশের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী প্রচারণা সংক্রান্ত কিছু বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলা এবং লঙ্ঘনের সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে স্পষ্টতা আনা।
শো-কার্স নোটিশের সময়সীমা ছিল আজ সকাল ৯:৩০ টার মধ্যে শহরের সব বিলবোর্ড অপসারণ করা এবং ১১ টার মধ্যে ব্যাখ্যা জমা দেওয়া। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছিল, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ না করা হয় তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নাহিদ ও পাটওয়ারি উভয়ই এই নির্দেশনা মেনে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছেন যে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলবে। তাদের জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো বিধি লঙ্ঘন না করার জন্য কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।
ঢাকা অতিরিক্ত ডিভিশনাল কমিশনার আজমুল হকও এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শো-কার্স নোটিশের প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যথাযথ সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
এই নোটিশগুলো ১৩ই জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশিত হয়, যেখানে বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর ওপর নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নজরদারি চালু রয়েছে।
নোটিশে উল্লিখিত ছিল, নাহিদ ও পাটওয়ারি উভয়কে আজ সকাল ৯:৩০ টার মধ্যে শহরের সব নির্বাচনী পোস্টার ও বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া, তারা কেন শাস্তি না দেওয়া উচিত তা ব্যাখ্যা করতে হবে এবং তা ১১ টার মধ্যে জমা দিতে হবে।
দলীয় নেতৃত্বের জবাবের পর রিটার্নিং অফিসার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, যদি জবাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া যায় তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনার পর নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোও নজর রাখবে যে, নাহিদ ও পাটওয়ারি তাদের প্রতিশ্রুতি মেনে চলবেন কিনা এবং নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের কোনো নতুন উদাহরণ দেখা যাবে কিনা।
ভবিষ্যতে যদি উভয় নেতা সময়মতো বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলেন এবং ব্যাখ্যা জমা দেন, তবে শো-কার্স নোটিশ প্রত্যাহার হতে পারে। অন্যথায়, রিটার্নিং অফিসার শাস্তি আরোপের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



