জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ১৯ জুলাই নির্বাচনী কমিশনের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়ে থাকেন।
নাছিরের মতে, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন বিশাল পরিমাণ অর্থের অপব্যবহার করেছেন এবং তা যাচাই না করা পর্যন্ত তার বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করে, রাজনৈতিক হুমকি দিয়ে তার কার্যক্রমকে বাধা দেওয়া উচিত নয়, এ কথা জোর দিয়ে বলেন।
প্রতিবাদে নাছির তিনটি পৃথক ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান এবং পূর্বে কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ইতিহাসিকভাবে ২০১৮ সালের নিসিরাতের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের বাড়িতে পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ করেছিল। নাছিরের মতে, ২০২৬ সালে জামায়াতের বাড়িতে একই রকম ব্যালট পাওয়া গেছে, যা ২০১৮ সালের ঘটনাকে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়।
নাছিরের দাবি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম স্বীকার করে তা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে ব্যালট কীভাবে বাসায় পৌঁছেছে তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তিনি কমিশনকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনকারী ব্যক্তিদের ওপর কোনো চোখ রাঙানিতে ভয় না দেখাতে এবং দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের ভূমিকা নিয়ে নাছির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভিসি কীভাবে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের জানুয়ারি ৫ তারিখের চিঠি সম্পর্কে গোপনে ছাত্রশিবিরকে অবহিত করে এবং পরে ঢাকায় এসে নতুন করে চিঠি পুনঃইস্যু করে।
শাবিপ্রবির ছাত্র সংসদ নির্বাচনের স্থগিতাদেশের বিষয়টি ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বজায় রাখার নির্দেশনা ছিল, তবে উপাচার্য তা জনসাধারণের সামনে প্রকাশ না করে গোপনে পরিচালনা করেন, এ কথাই নাছিরের অভিযোগ।
নাছিরের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক হুমকি থেকে মুক্ত থাকা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, দুদকের তদন্ত না হলে দুর্নীতির শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) এখন পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি, তবে ছাত্রদল দাবি করে যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নাছিরের মতে, দুর্নীতির পরিমাণ যদি সত্যিই হাজার কোটি টাকা হয়, তবে তা দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের বিশ্বাসের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
নাছিরের দাবি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটের অনিয়ম স্বীকার করার পরেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে সমস্যার সমাধানে ধীরগতি দেখিয়েছে। তিনি কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটতে নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।
শাবিপ্রবির উপাচার্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা না মানার অভিযোগে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ চায়। নাছিরের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এমন অনিয়ম শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুন্ন করে।
এই প্রতিবাদে ছাত্রদল নাছিরের দল একাধিক দিন ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



