শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ঢাকার জিয়া উদ্যানে সমাধিতে সমবেত হয়ে শ্রদ্ধা জানালেন।
১৯ জানুয়ারি সোমবারের সকালবেলা, রাজধানীর জিয়া উদ্যানে উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি সমাধির সামনে ফুল অর্পণ করে শোক প্রকাশ করেন।
জিয়াউর রহমান (১৯৩৬‑১৯৭৫) বাংলাদেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তার হত্যাকাণ্ডে শহীদ হন। তার মৃত্যু পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় নায়ক হিসেবে স্বীকৃত হয়।
সমাবেশের সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ১১ টায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রথমে ফুল দিয়ে সম্মান জানিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। এরপর অন্যান্য সংগঠনগুলো একের পর এক সমাধিতে গিয়ে শোক প্রকাশ করে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি দলীয় ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ওয়ার্ডের শতশত বিএনপি নেতাকর্মী জিয়া উদ্যানে সমাবেশে যোগ দেন। তারা সমাধির চারপাশে একত্রিত হয়ে শোকের মুহূর্ত ভাগ করে নেয় এবং ফুল অর্পণ করে সম্মান জানায়।
অনুষ্ঠানের সময় উপস্থিত নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুনরায় জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
কয়েকজন বিশ্লেষক ইভেন্টকে দলীয় ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেন, এমন স্মরণীয় অনুষ্ঠানগুলোকে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও ঐতিহাসিক স্মৃতি জোরদার করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বিএনপি এই ধরনের সমাবেশকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে। সমাধিতে শোক প্রকাশের মাধ্যমে দলটি তার ঐতিহাসিক ভিত্তি ও সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় করতে চায়।
ইতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জন্মবার্ষিকী ও শোক অনুষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই জনমত গঠন ও সংগঠনগত ঐক্য বাড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। জিয়া উদ্যানে এই সমাবেশও তেমনই একটি উদাহরণ।
সমাবেশের পর, উপস্থিত নেতারা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কার্যক্রমে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন। এই ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে দলীয় সংহতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।



