যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাস ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জানিয়েছে যে, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বন্ডের আগাম পরিশোধ এখন অনুমোদিত নয়। আবেদনকারীরা কেবলমাত্র ভিসা সাক্ষাৎকারের পরে, অনুমোদন প্রাপ্তির পরই নির্ধারিত পরিমাণ প্রদান করতে পারবেন।
দূতাবাসের এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। পূর্বে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা বন্ডের অর্থ আগেই জমা দিয়ে প্রক্রিয়াটি দ্রুত করার চেষ্টা করতেন, যা এখন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্ডের পরিমাণ ও শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে, তবে তা কেবলমাত্র ভিসা অনুমোদনের পরই সংগ্রহ করা হবে।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দূতাবাসের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে, আবেদনকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও নির্দেশনা দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আপডেট করা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপ, যেমন DS-160 ফর্ম পূরণ, ফি পরিশোধ এবং সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ, পূর্বের মতোই চালু থাকবে।
বিশ্বব্যাপী ভিসা নীতিমালার প্রবণতা বিবেচনা করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ দেশই বন্ডের পরিশোধকে সাক্ষাৎকারের পরের ধাপ হিসেবে নির্ধারণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে।
একজন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্যে বলেন, “বন্ডের আগাম পরিশোধ নিষিদ্ধ করা একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, যা ভিসা প্রক্রিয়ার জালিয়াতি রোধে সহায়ক। এটি আবেদনকারীদের জন্য স্বচ্ছতা বাড়ায় এবং দূতাবাসের কাজের দক্ষতা উন্নত করে।” এই ধরনের নীতি পরিবর্তন সাধারণত নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা থেকে উদ্ভূত হয়।
দূতাবাসের এই নীতি পরিবর্তনের ফলে, ভিসা আবেদনকারীদের এখন সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণের আগে বন্ডের অর্থ জমা না করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। সাক্ষাৎকারে সফল হলে, অনুমোদনের পর বন্ডের পরিমাণ নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রদান করতে হবে। এই প্রক্রিয়া আবেদনকারীর আর্থিক দায়িত্বকে স্পষ্ট করে এবং অনাবশ্যক আর্থিক ঝুঁকি কমায়।
বাংলাদেশের ভিসা আবেদনকারী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়া মিশ্রিত। কিছু আবেদনকারী এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে, এটি তাদের আর্থিক পরিকল্পনা সহজ করবে, অন্যদিকে কিছু আবেদনকারী উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, সাক্ষাৎকারের পর বন্ডের পরিশোধে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। তবে দূতাবাসের প্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন যে, বন্ডের পরিশোধের প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নিরাপদভাবে সম্পন্ন হবে।
দূতাবাসের এই নীতি পরিবর্তন ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার অন্যান্য দিকেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, ভিসা ফি এবং অন্যান্য শর্তাবলীর পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, যাতে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ হয়। এছাড়া, দূতাবাসের অফিসিয়াল যোগাযোগ চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে আবেদনকারীদের আপডেটেড তথ্য সরবরাহ করা হবে, যাতে তারা কোনো ধাপ মিস না করে।
এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিভাগও অন্যান্য দেশের দূতাবাসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একই ধরনের নীতি প্রয়োগের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিসা নিরাপত্তা ও প্রক্রিয়ার মানদণ্ড উন্নত করার এই প্রচেষ্টা, ভিসা আবেদনকারীদের জন্য একটি সমন্বিত ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা বন্ডের আগাম পরিশোধ এখন অনুমোদিত নয়। আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের পর বন্ড প্রদান করতে হবে, এবং এই পরিবর্তন ভিসা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের জন্য সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা দূতাবাসের ওয়েবসাইটে উপলব্ধ থাকবে, এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দূতাবাসের কনসুলার কর্মীরা প্রদান করবেন।



