শহীদ সিএইচই-র সামনে মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ছাত্রদল পুনরায় হুঁশিয়ারি জানায়, দাবিগুলো পূরণ না হলে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব উপস্থিতি কর্মসূচির সময় ইসির ন্যায়পরায়ণতা ও স্বতন্ত্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রাকিব বলেন, “যদি আমাদের দাবি পূরণ না হয়, আমরা সব পন্থা অবলম্বন করবো” এবং তাপমাত্রা বাড়লেও অবস্থান চালিয়ে যাবে বলে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দলটি পূর্বের মতোই সুশৃঙ্খলভাবে রোদে দাঁড়িয়ে থাকবে এবং প্রয়োজনে সারারাত অবস্থান করবে।
প্রধান তিনটি বিষয় রাকিবের বক্তব্যে উঠে আসে। প্রথমত, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ইসির পক্ষপাতদুষ্টতা ও প্রশ্নবিদ্ধতা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। দ্বিতীয়ত, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের ফলে ইসি হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে ক্ষুণ্ণ করে। তৃতীয়ত, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এসইউএসটি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে ইসি একটি বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
রাকিবের মতে, এই তিনটি ইস্যু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল আরেকটি অবস্থান কর্মসূচি চালাবে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, দলটি পূর্বের দিনের মতোই প্রায় নয় ঘণ্টা ইসির সামনে অবস্থান করেছে এবং বিকেল পাঁচটায় পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ইসির সঙ্গে বৈঠক করে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।
বৈঠকে ছাত্রদল ইসির কাছে তিনটি মূল ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করে। ইসির প্রতিনিধিরা কিছু আশ্বাস প্রদান করলেও, রাকিব ও তার সহকর্মীরা দাবি পূরণ না হওয়ায় আবার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই পুনরাবৃত্তি কর্মসূচি ছাত্রদলের দৃঢ়তা ও ইসির প্রতি অবিশ্বাসের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসির পক্ষ থেকে বৈঠকের পর একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য প্রকাশিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে তারা ছাত্রদলের উদ্বেগ শোনার জন্য প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। তবে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সিদ্ধান্তের উল্লেখ না থাকায় ছাত্রদল এখনও সন্তুষ্ট নয়।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইসির এই প্রতিক্রিয়াকে অপর্যাপ্ত বলে উল্লেখ করে, দাবি করেন যে বাস্তবিক পদক্ষেপ ছাড়া কেবল আশ্বাসই যথেষ্ট নয়। তারা ইসির প্রতি চাপ বাড়িয়ে দাবি পূরণের জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন।
বিশ্লেষকরা বলেন, এই ধরনের ছাত্র আন্দোলন ইসির স্বতন্ত্রতা ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন। যদি ইসি এই দাবিগুলো উপেক্ষা করে, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাস পেতে পারে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে।
অবশেষে, রাকিব ও তার দল ইসির সঙ্গে চলমান আলোচনার পাশাপাশি জনসাধারণের সমর্থন বাড়াতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইসির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ছাত্রদলের অব্যাহত চাপ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



