চীন সরকার আজ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত বছর মাত্র ৭.৯২ মিলিয়ন শিশুর জন্ম নথিভুক্ত হয়েছে, যা প্রতি হাজারে ৫.৬৩টি জন্মের হার নির্দেশ করে। এই হার ১৯৪৯ সাল থেকে জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (NBS) রেকর্ড করা সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে, ফলে জনসংখ্যা চার বছর ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
১৯৪৯ সালে মাও সেতুং人民共和国 প্রতিষ্ঠার পর থেকে চীনের জন্ম হার এই রকম নিম্নে নেমে কখনো দেখা যায়নি। ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭০‑১৯৯০ দশকে এক-শিশু নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগের ফলে জন্ম হার স্থিতিশীল ছিল, তবে নীতির শিথিলতা ও শেষের দিকে সম্পূর্ণ বাতিলের পরেও গত দশকে ধারাবাহিক হ্রাসের প্রবণতা বজায় রয়েছে।
বেইজিং সরকার পরিবার গঠন ও সন্তান জন্মকে উত্সাহিত করার জন্য বিভিন্ন নীতি চালু করেছে। শিশু যত্নের জন্য আর্থিক সহায়তা, প্রি-স্কুলের সাবসিডি এবং এমনকি কনডমের উপর কর আরোপের মতো অপ্রচলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দ্রুত বয়স বাড়তে থাকা জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা এবং শ্রমশক্তি সংকট প্রতিরোধ করা।
এক-শিশু নীতির অবসানের পরেও জন্ম হার প্রত্যাশিতভাবে বাড়েনি; ২০২৪ সালে প্রতি হাজারে ৬.৭৭টি জন্মের সামান্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, তবে তা সামগ্রিক হ্রাসের প্রবণতাকে থামাতে পারেনি। ২০২৩ সালে ৯.০২ মিলিয়ন শিশুর জন্ম নথিভুক্ত হয়েছিল, যা প্রতি হাজারে ৬.৩৯টি জন্মের সমতুল্য।
বিবাহের হারও রেকর্ড নিম্নে নেমে এসেছে। উচ্চ সন্তান লালন-পরিচর্যার খরচ, ক্যারিয়ার গড়ে তোলার চাপ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তরুণ দম্পতিদের সন্তান নেওয়া থেকে বিরত রাখছে। এই সামাজিক প্রবণতা জন্ম হারের হ্রাসে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
জনসংখ্যা হ্রাসের পাশাপাশি মৃত্যুর হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে ১১.৩১ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, যা প্রতি হাজারে ৮.০৪টি মৃত্যুর হার নির্দেশ করে। ফলে মোট জনসংখ্যা প্রতি হাজারে ২.৪১টি হ্রাস পেয়েছে, যা পূর্বের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।
চীনের এই জনসংখ্যা সংকটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যান্য নিম্ন জন্ম হারযুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে একই ধরনের জনবয়সীয় সমস্যার সম্মুখীন, তবে চীনের বিশাল জনসংখ্যার মাত্রা এটিকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে আসে।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “চীনের জনসংখ্যা হ্রাস তার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি, শ্রমশক্তির প্রাপ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলবে।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, জনসংখ্যা হ্রাস কেবল সামাজিক বিষয় নয়, বরং কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশলেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, বাণিজ্যিক চাপ এবং প্রযুক্তি-নির্ভর শিল্পের পরিবর্তন চীনের শ্রমবাজারকে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। জনসংখ্যা হ্রাসের ফলে শ্রমিকের সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে, যা রপ্তানি প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলবে।
চীনা সরকার আগামী বছরগুলোতে জনসংখ্যা নীতি পুনর্বিবেচনা করার সংকেত দিয়েছে। পরবর্তী জাতীয় জনসংখ্যা জরিপ এবং নীতি পর্যালোচনা ২০২৬ সালে নির্ধারিত হয়েছে, যা নতুন প্রণোদনা বা কর নীতির পরিবর্তন আনতে পারে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চীনের জনসংখ্যা প্রবণতা কীভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করবে তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।



