মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার তার নিজস্ব সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট প্রকাশ করে জানান যে, ডেনমার্ক দুই দশক ধরে গ্রিনল্যান্ড থেকে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি দূর করার জন্য চাপের মুখে রয়েছে, তবে দেশটি এখনো কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন যে, ডেনমার্ককে বহু বছর ধরে এই বিষয়টি সমাধান করতে বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবিক কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পটভূমি হল তার দীর্ঘদিনের দাবি যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অর্জন করতে চায়। পূর্বে তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে এই দ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং ডেনমার্ককে বিক্রয়মূলক আলোচনায় বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পের দাবিকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উভয় পক্ষই স্পষ্ট করে বলেছে যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না। এই অবস্থানটি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
ট্রাম্পের পোস্টের পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ও ডেনমার্কের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিশ প্রেসিডেন্সি এবং ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবই তৎক্ষণাৎ কোনো উত্তর দেননি, ফলে বিষয়টি আরও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়ে গেছে।
ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপে তিনি ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড কিনে না নিলে এই শুল্ক নীতি চালু থাকবে, যা ইউরোপীয় বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই দাবির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। ডেনমার্কের জন্য এটি একটি সংবেদনশীল বিষয়, কারণ গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা ন্যাটো কাঠামোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের ক্ষতি করতে পারে।
ডেনমার্কের সরকার এখন পর্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে কোনো সরকারি নীতি পরিবর্তন বা আলোচনার সূচনা করেনি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, ট্রাম্পের এই প্রকাশনা ডেনমার্কের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তা নীতির পুনর্বিবেচনার দিকে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত নতুন দাবি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্কের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ নীতি ও ইউরোপীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যানের পরও, এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।



