22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগার্মেন্টস শিল্পের মালিকরা কাঁচা সুতার শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানালেন

গার্মেন্টস শিল্পের মালিকরা কাঁচা সুতার শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানালেন

গার্মেন্টস খাতের প্রধান উদ্যোক্তারা কাঁচা সুতার ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি তুলে ধরেছেন এবং সরকারের কাছে তিনটি মূল প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, রপ্তানিকারকদের সঙ্গে আলোচনার সময় ট্রেড ও ট্যারিফ কমিশন একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ করেছে এবং এই পদক্ষেপকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিরাপত্তা চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।

প্রস্তাবিত তিনটি ধারা হল: প্রথমত, কাঁচা সুতার শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা; দ্বিতীয়ত, দেশীয় মিলগুলোকে সরাসরি আর্থিক প্রণোদনা বা বিশেষ সুবিধা প্রদান; তৃতীয়ত, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা দিয়ে উৎপাদন খরচ হ্রাস করা। এই দাবিগুলো শিল্পের উৎপাদন খরচ কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে।

গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমান শুল্ক কাঠামো কাঁচা সুতার আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়ে রপ্তানি মূল্যে প্রভাব পড়ছে। শুল্কের ফলে দেশীয় মিলগুলো আন্তর্জাতিক মানের সুতার সরবরাহে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত গ্লোবাল চেইনে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল করতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শুল্ক প্রত্যাহার হলে কাঁচা সুতার আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় মিলগুলোকে সময়মতো ও মানসম্মত সুতার সরবরাহে সক্ষম করবে। ফলে গার্মেন্টস উৎপাদনের সময়সীমা কমে যাবে, রপ্তানি চুক্তি পূরণে সুবিধা হবে এবং শিল্পের মোট রেভিনিউ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শুল্ক বজায় থাকলে গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে উচ্চতর খরচ শোষণ করতে হবে, যা শ্রমিকদের বেতন ও মুনাফার ওপর চাপ বাড়াবে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান হ্রাস এবং শিল্পের আউটপুট কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই শিল্পের মালিকরা সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন।

সেলিম রহমান, গার্মেন্টস সংস্থার একজন প্রধান সদস্য, উল্লেখ করেন, “যদি দেশীয় মিলগুলো আন্তর্জাতিক মানে সময়মতো সুতার সরবরাহ করতে পারে, তবে বিদেশি ক্রয়ের প্রয়োজন কমে যাবে। অন্যথায়, শিল্পের টিকে থাকার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।” এই বক্তব্য শিল্পের স্বনির্ভরতা ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি, তবে ট্রেড ও ট্যারিফ কমিশনের সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা ও সংশোধনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়, তবে গার্মেন্টস সেক্টরের উৎপাদন খরচ কমে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা বাড়বে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কাঁচা সুতার শুল্ক হ্রাসের ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আসবে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। এছাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে।

তবে, শুল্ক প্রত্যাহার এবং প্রণোদনা প্রদান করার জন্য সরকারের বাজেটের প্রভাবও বিবেচনা করা দরকার। আর্থিক সংস্থান সীমিত থাকায়, সরকারকে নীতিগত অগ্রাধিকার নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সারসংক্ষেপে, গার্মেন্টস শিল্পের মালিকদের কাঁচা সুতার শুল্ক প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা চাওয়ার দাবি দেশের রপ্তানি ভিত্তিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শুল্কের পরিবর্তন, সরবরাহের নিরাপত্তা এবং উৎপাদন খরচের হ্রাস একসাথে শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। সরকার যদি এই প্রস্তাবগুলোকে বাস্তবায়ন করে, তবে গার্মেন্টস সেক্টরের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও বাজার শেয়ার রক্ষা সম্ভব হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments