রবিবার রাত দেড়টার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় চোরের সন্দেহে দুই যুবকের ওপর গৃহস্থালির লোকজনের পিটুনি শেষমেশ দুজনের মৃত্যু ঘটায়। ঘটনাটি জয়মন্টপ ইউনিয়নের সজের মোড়া তিন রাস্তার মোড়ে ঘটেছে, যেখানে স্থানীয় পুলিশ অফিসার মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে তথ্য জানিয়েছেন।
মৃতদেহে অন্তর্ভুক্ত হলেন ছয়আনি গ্রাম থেকে বান্দু মিয়ার ছেলে দীন ইসলাম, বয়স ২২ বছর, এবং পাশের দশানী গ্রাম থেকে তোতা মিয়ার ছেলে মজনু, বয়স ২৭ বছর। উভয়ই স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং তাদের পরিবার ঘটনাস্থলে শোক প্রকাশ করেছে।
সন্ধ্যাবেলা ইমামনগর গ্রাম, জয়মন্টপ ইউনিয়নের ইউনুস মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে পাঁচজনের একটি গোষ্ঠী তালা ভাঙার চেষ্টা করে। বাড়ির লোকজন চিৎকারের মাধ্যমে সতর্ক হলে, আশেপাশের গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গোষ্ঠীর মধ্যে থেকে দুজনকে (দীন ও মজনু) ধরার পর তাদের ওপর গোষ্ঠীভুক্ত লোকজনের হাতে পিটুনি শুরু হয়।
পিটুনির ফলে দুজনই গুরুতর আঘাত পায় এবং স্থানীয় পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাদেরকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
সিংগাইর থানার পরিদর্শক স্বপন কুমার সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে বলেন, মৃতদের দেহ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের পর আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মজনু ও দীন উভয়ের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক চুরির মামলা দায়ের হয়েছে এবং তারা পুলিশ তালিকাভুক্ত চোর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পুলিশের মতে, পিটুনির সময় গ্রামবাসীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যায়বিচার সম্পাদনের চেষ্টা করেছিল, তবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এমন গৃহস্থালি শাস্তি অপরাধমূলক কাজের পরিণতি হিসেবে গণ্য হবে। তদন্তকর্তা স্বপন কুমার সরকার জানান, গৃহস্থালি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয় সমাজে শোকের পরিবেশ বজায় থাকবে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে, যেখানে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আত্মীয়দের কাছে দেহ হস্তান্তর করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ গৃহস্থালি শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণে জোর দিচ্ছে। একই ধরনের গৃহস্থালি শৃঙ্খলা রক্ষার ঘটনা পূর্বে বাগেরহাট ও মোহাম্মদপুরে ঘটেছে, যা স্থানীয় আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে গ্রামবাসী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত কাজের আহ্বান জানানো হয়েছে।



