বলিউডের অভিনেতা-উদ্যোক্তা অজয় দেবগণ এই সপ্তাহে লেন্স ভল্ট স্টুডিওসের মাধ্যমে ‘বাল তানহাজি’ নামের প্রথম জেনারেটিভ এআই প্রকল্পের ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগটি তাদের নতুন প্রোডাকশন শাখা থেকে প্রকাশিত প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা‑চালিত কন্টেন্ট হিসেবে চিহ্নিত।
লেন্স ভল্ট স্টুডিওসটি অজয় দেবগণ ও তাঁর ভাগ্নে দানিশ দেবগণ একসাথে প্রতিষ্ঠা করেছেন। দুজনের লক্ষ্য হল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিনেমা ও ডিজিটাল মিডিয়ার সীমানা প্রসারিত করা। স্টুডিওটি এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি প্রচলিত চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চালু করেছে।
‘বাল তানহাজি’ প্রকল্পটি ২০২০ সালের ঐতিহাসিক অ্যাকশন চলচ্চিত্র ‘তানহাজি: দ্য আনসাং ওয়ারিয়র’ এর জগতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। মূল ছবিতে অজয় দেবগণ তানহাজি মালুসারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, আর এই নতুন উদ্যোগটি সেই গল্পের ধারাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সম্প্রসারিত করবে।
অজয় দেবগণ এই প্রকল্পকে ভবিষ্যৎ‑প্রস্তুত কন্টেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল এমন ফরম্যাট ও মিডিয়া অনুসন্ধান করা যা এখনো সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয়নি, এবং তা মূলধারার সিনেমার শৃঙ্খলা ও স্কেল দিয়ে বাস্তবায়ন করা।”
প্রকল্পের প্রযুক্তিগত ভিত্তি গঠন করেছে লেন্স ভল্টের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি বিভাগ, প্রিজমিক্স স্টুডিওস। এই বিভাগটি নিজস্ব জেনারেটিভ এআই টুলস তৈরি করেছে, যা গল্পের কাঠামো, চরিত্রের বিকাশ এবং ভিজ্যুয়াল উপাদান স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎপন্ন করতে সক্ষম।
দানিশ দেবগণ, যিনি লেন্স ভল্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, এআই প্রযুক্তিকে গল্পের জগৎকে বিস্তৃত করার একটি উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “জেনারেটিভ এআই আমাদেরকে এমনভাবে গল্পের মহাবিশ্বকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে যা আগে সম্ভব ছিল না, ফলে দর্শকরা আরও গভীর ও স্কেলযোগ্য অভিজ্ঞতা পায়।”
‘বাল তানহাজি’ মূল চলচ্চিত্রের কোনো পরিবর্তন বা প্রতিস্থাপন নয়; বরং এটি অতিরিক্ত কন্টেন্ট তৈরি করে যা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উপভোগ করা যাবে। মূল কাহিনীর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন দৃশ্য, পটভূমি ও চরিত্রের অতিরিক্ত দিক যুক্ত করা হবে।
এই কন্টেন্ট বিশেষভাবে এআই‑সক্ষম মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারী ইন্টারেক্টিভ বা ব্যক্তিগতকৃত অভিজ্ঞতা পেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, সাউন্ডট্র্যাক এবং ডায়ালগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করা সম্ভব হবে।
লেন্স ভল্ট স্টুডিওসের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হল একাধিক ফরম্যাটে গল্প বলা, যেমন সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, গেম এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। এআই‑চালিত পদ্ধতি এই লক্ষ্যকে দ্রুততর ও ব্যয়সাশ্রয়ী করে তুলবে বলে তারা আশা করে।
দর্শকদের জন্য এই নতুন প্রকল্পটি আরও ইমারসিভ অভিজ্ঞতা প্রদান করবে, যেখানে তারা ঐতিহাসিক চরিত্রের সঙ্গে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচিত হতে পারবে। এআই‑এর সাহায্যে তৈরি কন্টেন্টের গুণগত মান ও স্কেল বাড়ার ফলে বৃহত্তর দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, তবে এখনও এটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অজয় দেবগণের উদ্যোগটি এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং অন্যান্য প্রযোজকদের জন্য উদাহরণ স্থাপন করবে।
‘বাল তানহাজি’ প্রকল্পের সূচনা দর্শকদের নতুন ধরনের বিনোদন উপভোগের সুযোগ দেবে, এবং ভবিষ্যতে আরও এআই‑চালিত গল্পের সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে, পাঠকরা নিজস্ব পছন্দের প্ল্যাটফর্মে নতুন কন্টেন্ট অনুসন্ধান করতে পারেন।



