অস্থায়ী সরকার ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সব গনস্লট লাইসেন্সধারীকে তাদের অস্ত্র নিকটস্থ থানা‑এ জমা দিতে আদেশ জারি করেছে। এই পদক্ষেপটি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের আগে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। নির্দেশটি গৃহ মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক‑৪ শাখার নোটিফিকেশন দ্বারা প্রকাশিত হয়।
নোটিফিকেশনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোটের সময় অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে এবং এই নিষেধাজ্ঞা ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বজায় থাকবে। এই সময়কালে কোনো নাগরিককে অস্ত্র বহন বা প্রদর্শনের অনুমতি থাকবে না।
তবে, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং সংসদীয় প্রার্থীদের জন্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
প্রার্থীদের ক্ষেত্রে, যদি তাদের প্রার্থিতা পত্র নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে দাখিল ও গ্রহণ করা হয়, অথবা তাদের জন্য অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনার নিয়োগ করা থাকে, তবে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধের আওতায় না আসবে। এই ব্যতিক্রমের উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট আইনগত ধারা অনুযায়ী, অবৈধভাবে অস্ত্র বহন করা বা জমা না করা ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
গৃহ মন্ত্রণালয় সকল থানা প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই আদেশ কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। থানা স্তরে দ্রুত সমন্বয় ও তদারকি নিশ্চিত করা হবে যাতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব অস্ত্র সংগ্রহ করা যায়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি উল্লেখ করেছে যে, এই জমা বাধ্যবাধকতা এবং সাময়িক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনকালীন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি রুটিন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা আশাবাদী যে, এই ব্যবস্থা সহিংসতা ও হুমকির ঝুঁকি কমাবে।
দ্রষ্টব্য, ১৪ ডিসেম্বর সরকার রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও প্রার্থীদের জন্য গনস্লট লাইসেন্স ও রিটেইনার অনুমোদনের নীতি নির্দেশিকা প্রকাশ করে। এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, লাইসেন্স বা রিটেইনার প্রদান করার আগে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়েন্দা সংস্থার সমীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই কাঠামোর অধীনে জারি করা গনস্লট লাইসেন্স নির্বাচন ফলাফল প্রকাশের ১৫ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। ফলে, ফলাফল ঘোষণার পর লাইসেন্সধারীদের আর কোনো বৈধ অস্ত্র বহনের অধিকার থাকবে না।
এই নীতিমালা ও আদেশের বাস্তবায়ন নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এবং পরে উভয় সময়ে আইনগত কাঠামো মেনে চলা নিশ্চিত করা হবে, যাতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহিংসতায় রূপ না নেয়।



