চট্টগ্রাম বিভাগের মিরসরাই উপজেলা, নিঝামপুর সেতু এলাকায় আজ সকাল প্রায় ৮:৩০ টায় গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি একটি পিক‑আপ ভ্যানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি ছোট দ্বীপে আঘাত হানায় এক পথচারী প্রাণ হারান। ঘটনায় গাড়ি চালক ও সহকারী দুজনই তৎক্ষণাৎ স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়, আর স্থানীয় বাসিন্দা ও পার্শ্ববর্তী কর্মীরা দ্রুত আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান।
মৃত্যুবার্তা পাওয়া যায় ৪২ বছর বয়সী আবদুর রহমানের, যিনি ওই এলাকার দক্ষিণ ওলি নগর থেকে আসা বাসিন্দা। তিনি দুর্ঘটনার সময় দ্বীপে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং গাড়ির আঘাতে গুরুতর আঘাত পেয়ে তৎক্ষণাৎ রক্তপাত শুরু হয়। স্থানীয় মানুষদের ত্বরিত সহায়তায় তিনি হাসপাতালে পৌঁছান, তবে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা তাকে মৃত হিসেবে ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত পিক‑আপটি চট্টগ্রাম গন্তব্যে যাওয়ার পথে ঢাকা থেকে চলছিল। গাড়ির চালক গতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সড়কের পার্শ্ববর্তী নিরাপত্তা দ্বীপে আঘাত হানেন, ফলে গ্যাস সিলিন্ডারগুলো ভেঙে গাড়ির গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়ির গতি ও গ্যাসের সংমিশ্রণ সম্ভবত দুর্ঘটনার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছিল।
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ স্টেশনের অফিসার‑ইন‑চার্জ জাকির রাব্বানি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পার্শ্ববর্তী দ্বীপে আঘাত হানার পর চালক ও সহকারী দ্রুত গাড়ি ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। রাব্বানি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।
আহত ব্যক্তির তৎকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির দিকে দৌড়ে গিয়ে আহতকে সড়কের পাশে থাকা ছোট দ্বীপ থেকে তুলে নিয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেছেন। তবে গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ ঝুঁকি ও গাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থা চিকিৎসা কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
হাইওয়ে পুলিশ গাড়ি থেকে গ্যাস সিলিন্ডার, চালকের পরিচয়পত্র এবং গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নথি সংগ্রহ করেছে। তবে চালক ও তার সহকারী দুজনই ঘটনাস্থল ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যায়। পুলিশ এখন তাদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণ, গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ পরিবহন না করা এবং ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় আদালতে মামলা দায়ের করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রাস্তায় গ্যাস সিলিন্ডারসহ ভারী পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক পুলিশ ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গাড়ির লোডিং, গতি সীমা এবং ড্রাইভারের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।



