স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, লাইসেন্সধারী সকল বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নিকটস্থ থানায় জমা দিতে হবে। এই পদক্ষেপটি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সম্ভাব্য সহিংসতা ও আতঙ্ক কমানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাইসেন্সধারীরা কোনো অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন করতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত বজায় থাকবে, ফলে ভোটদানের সময় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তবে, রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মের কিছু ছাড় রয়েছে। নির্বাচনী কমিশনে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল ও গৃহীত প্রার্থীদের এবং তাদের অনুমোদিত সশস্ত্র রিটেইনারদের জন্য অস্ত্র প্রদর্শন নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই আদেশের কার্যকরীতা নিশ্চিত করতে দেশের সব পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অস্ত্র জমা ও বহনের নিষেধাজ্ঞা একটি নিয়মিত এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সহিংসতা ও আতঙ্কের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা যুক্তি দেন, যদি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভোটের পরিবেশ আরও শান্তিপূর্ণ হবে। তবে তারা মাঠ পর্যায়ে নজরদারি ও তদারকির শক্তিশালীকরণে জোর দিয়ে বলেন, একক নীতি যথেষ্ট নয়; পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা দরকার।
এই নির্দেশনার ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন চলাকালে অস্ত্র সংক্রান্ত কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, নির্বাচন কমিশন এবং নিরাপত্তা দপ্তর একসাথে কাজ করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এতে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টা ভোটদানের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে লক্ষ্য রাখছে, এবং বৈধ অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণকে এই লক্ষ্য অর্জনের একটি মূল উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।



