১৯ জানুয়ারি সোমবার, রাজধানীর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি)‑এ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ এর চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সকাল ৯টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন। একই সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মহা‑পরিচালক প্রফেসর বি.এম. আব্দুল হান্নানও অংশগ্রহণ করেন।
মাউশি’র প্রশিক্ষণ শাখার সহকারী পরিচালক এস. এম. সাইফুল ইসলাম বাসসের মতে, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাই পার করে যেসব শিক্ষার্থী আজকের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন, তারা দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে নির্বাচিত সেরা প্রতিভা। প্রতিযোগিতার সময়সূচি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীরা একদিনের মধ্যে মোট ২৫টি ভিন্ন‑ভিন্ন ইভেন্টে তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা প্রদর্শন করবেন। প্রতিটি ইভেন্টের শীর্ষ তিনজন অংশগ্রহণকারীকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
প্রতিযোগিতার সূচনা থেকেই শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন; সকাল ৯টায় বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম শুরু হয় এবং পুরো দিন জুড়ে ধারাবাহিকভাবে ইভেন্টগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাউশি ১৫ জানুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায় যে, চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরপরই, আগামীকাল মঙ্গলবার পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার উপস্থিত থাকবেন। মিটিংটি রেহানা পারভীন সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের বিচারক প্যানেল দ্বারা পরিচালিত হবে, যাতে প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়।
বিচারক প্যানেলের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, সচিব রেহানা পারভীন এবং অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী নিযুক্ত হয়েছেন। মাউশি ইতিমধ্যে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য একটি জাতীয় কমিটি এবং বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করেছে, যা পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও তদারকি নিশ্চিত করবে।
এই ধরনের বৃহৎ মাত্রার শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর একই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলা থেকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে তাদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেন। আজকের চূড়ান্ত পর্যায়েও এমনই সম্ভাবনা রয়েছে; অংশগ্রহণকারীরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের দরজা খুলে নিতে পারেন।
প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ও পুরস্কার বিতরণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: প্রতিটি ইভেন্টে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও শিখনকে আপনার রেজুমে ও সিভিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন, যাতে ভবিষ্যৎ আবেদন প্রক্রিয়ায় তা আপনার সুবিধা হিসেবে কাজ করে। আপনি কি মনে করেন, এমন জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আপনার শিক্ষাগত লক্ষ্য অর্জনে কতটা সহায়ক হতে পারে?



