নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সোমবার পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, পোস্টাল ব্যালটে ভোটের কারচুপি করা বা অন্যের ভোট দেওয়া প্রযুক্তিগতভাবে অপ্রাপ্য। তিনি বলেন, ফেস ডিটেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটারকে সনাক্ত করা হয়, ফলে একাধিক ভোট এক ব্যালটে জমা দেওয়া সম্ভব নয়।
সানাউল্লাহের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভোটারদের মধ্যে অনাবশ্যক উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের গুজবের ভিত্তিতে কোনো সন্দেহের কারণ নেই এবং ভোটারদের সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণ সেশনে উপস্থিত প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা, গঠন ও গণনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইসি উল্লেখ করেন, এই প্রশিক্ষণ ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইসির একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হল, মালয়েশিয়া থেকে প্রেরিত ৪,০০০টি পোস্টাল ব্যালট ঠিকানা না পাওয়ায় ফেরত এসেছে। একই সমস্যার কারণে ইতালির থেকে ১,৬০০টি ব্যালটও প্রত্যাবর্তিত হয়েছে। এই ব্যালটগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের নির্বাচনী সিস্টেমে পৌঁছাতে পারেনি।
সানাউল্লাহ ব্যাখ্যা করেন, প্রবাসীদের সঠিক ঠিকানা না থাকলে ব্যালটগুলো গন্তব্য দেশে পৌঁছানো কঠিন হয়। তিনি জোর দেন, এই ধরনের সমস্যার সমাধানে ভোটারদের ঠিকানা আপডেট করা এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি।
ইসি আরও জানান, পোস্টাল ব্যালটের গণনা প্রক্রিয়ায় ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা ভোটারকে তার পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করে। এই প্রযুক্তি ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করার পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করে।
প্রশিক্ষণ শেষে তিনি উল্লেখ করেন, পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গৃহীত হবে। নির্বাচনী কমিশন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তদারকি দল গঠন করবে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ইসি জানান, বর্তমান প্রযুক্তি এবং প্রক্রিয়া অনুসারে কোনো ধরণের কারচুপি সম্ভব নয় এবং সব প্রমাণিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
এই বক্তব্যের পর, নির্বাচনী কমিশনের কর্মকর্তারা ভোটারদেরকে অনুরোধ করেন, তাদের ঠিকানা সঠিকভাবে আপডেট করতে এবং কোনো পরিবর্তন হলে দ্রুত জানাতে। এভাবে ভবিষ্যতে ব্যালটের ফেরত কমে যাবে এবং ভোটের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।
ইসির এই নিশ্চিতকরণ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা জোরদার করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পাবে এবং নির্বাচনের বৈধতা শক্তিশালী হবে।
পরবর্তী ধাপে, কমিশন পোস্টাল ব্যালটের গণনা শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রকাশের জন্য নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে, সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যের মোকাবিলায় তথ্যপ্রচারণা চালু করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ইসির এই মন্তব্য পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে এক দিক থেকে সমাপ্তি এনে দেয় এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।



