অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে নিজের মন্তব্যের ওপর বাড়তে থাকা সমালোচনার জবাব দেন। তিনি যে মন্তব্যকে কিছু লোক কমিউনাল পক্ষপাতের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিল, তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি নিজের শিল্পীসত্তা ও উদ্দেশ্যগুলো তুলে ধরেছেন।
ভিডিওতে তিনি সরাসরি কোনো ক্ষমা চাওয়া বা পূর্বের কথাকে প্রত্যাহার করার চেষ্টা করেননি; বরং তার সঙ্গীত যাত্রা, সৃষ্টির প্রেরণা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তার সংযোগের কথা বর্ণনা করেছেন।
রহমানের মতে, সঙ্গীতই তার জন্য সংস্কৃতি সংযুক্তি, উদযাপন ও সম্মানের মূল মাধ্যম। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে তার সুরের মাধ্যমে তিনি সবসময়ই মানুষের হৃদয়কে একত্রিত করার চেষ্টা করেছেন।
তার কথায় দেশপ্রেমের গভীর অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে; তিনি ভারতকে নিজের ‘অনুপ্রেরণা, শিক্ষক ও ঘর’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের প্রতি তার অটুট বন্ধনকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে কখনো কখনো উদ্দেশ্য ভুলভাবে ধরা পড়ে।
‘আমি কখনোই কাউকে কষ্ট দেওয়ার ইচ্ছা রাখিনি, এবং আশা করি আমার আন্তরিকতা অনুভূত হবে’ – এ ধরনের অনুভূতি তিনি ভিডিওতে প্রকাশ করেছেন, যা তার নীরব কিন্তু স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
আলোচনাকে সরাসরি মোকাবেলা করার বদলে তিনি কৃতজ্ঞতা, সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সেবা করার মানসিকতা তুলে ধরেছেন। তার বার্তায় দেখা যায় যে তিনি শিল্পের প্রতি তার অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করতে চান, না যে কোনো বিতর্কে জড়াতে।
রহমান তার চলমান বিভিন্ন সহযোগী প্রকল্প, শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম এবং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে উজ্জ্বল করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন। এসব কাজের মাধ্যমে তিনি নতুন কণ্ঠস্বরকে মঞ্চে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিতর্কের মূল সূত্রটি একটি সাক্ষাৎকারে ফিরে যায়, যেখানে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের গত আট বছরে পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে শিল্পের পরিবর্তন তার কাজের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সৃজনশীল নয় এমন ব্যক্তিদের প্রভাব বাড়ছে।
সেই সাক্ষাৎকারে তিনি ‘এটি হয়তো কোনো কমিউনাল বিষয়ও হতে পারে’ এমন একটি ইঙ্গিত দেন, তবে তা সরাসরি নিজের অভিজ্ঞতা নয়, বরং অন্যের কথায় শোনা একটি ধারণা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন মতামত উত্থাপিত হয়। কিছু পর্যবেক্ষক মন্তব্যকে অনুপযুক্ত বলে সমালোচনা করেন, অন্যদিকে অনেকেই তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার অধিকারকে সমর্থন করেন।
শিল্পের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও দর্শকগণ এই বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান, তবে রহমানের ভিডিওতে তিনি সরাসরি সেই সাক্ষাৎকারের উল্লেখ বা ক্ষমা চাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। তার বার্তা মূলত সঙ্গীতের ঐক্যবদ্ধ শক্তি ও তার নিজের সৃষ্টির প্রতি অটুট বিশ্বাসের ওপর কেন্দ্রীভূত।
এই ঘটনা ভারতীয় বিনোদন জগতে কমিউনাল সংবেদনশীলতা ও শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এ আর রহমানের জন্য, তার সুরের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করা এবং সংস্কৃতিকে সম্মানিত করা এখনো সর্বোচ্চ লক্ষ্য।



