22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসরকারি নির্দেশে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি, কর্মীদের বকেয়া মেটাতে উদ্যোগ

সরকারি নির্দেশে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি, কর্মীদের বকেয়া মেটাতে উদ্যোগ

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ্য নোটের ভিত্তিতে, সরকার নাসা গ্রুপের মালিকানাধীন সম্পদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে কর্মীদের বকেয়া বেতন ও সেবার সুবিধা পরিশোধ করা যায়। এই পদক্ষেপটি আদালতের আদেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং শ্রম ও ব্যবসা শর্তাবলি পর্যালোচনা করার জন্য গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের পনেরোতম সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হুসেইন উল্লেখ করেন।

সভাটি ঢাকা সেক্রেটারিয়েটে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভার্নর, শিল্প এলাকা পুলিশ অতিরিক্ত পরিদর্শক জেনারেল, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, নাসা গ্রুপের প্রশাসক এবং বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় জোর দেওয়া হয় যে, আদালতের নির্দেশনা মেনে বকেয়া অর্থের সঠিক পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।

উপদেষ্টা হুসেইন জানান, নাসা গ্রুপ ইতিমধ্যে আদালত নিযুক্ত প্রশাসকের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করে কর্মীদের কাছে ৭৬ কোটি টাকা প্রদান করেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে আটটি ব্যাংকে প্রাথমিক অর্থ প্রদান করা হয়েছে। অবশিষ্ট পনেরোটি ব্যাংক এবং কর্মীদের বকেয়া বেতন সম্পূর্ণভাবে মেটাতে, গ্রুপের কিছু সম্পদ উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় বিক্রি করা হবে, যা আদালতের নির্দেশনা অনুসারে পরিচালিত হবে।

নাসা গ্রুপের কর্মসংখ্যা ৩০,০০০ের বেশি, প্রধানত টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস সেক্টরে, পাশাপাশি ব্যাংকিং ও রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রেও সক্রিয়। তবে, গ্রুপের চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম মজুমদারকে গত অক্টোবর মাসে ২০২৪ সালের জুলাই উত্থানের সঙ্গে যুক্ত একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার করা হয়, ফলে কোম্পানির কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লেগে।

মিডিয়া সূত্র অনুযায়ী, আগস্ট মাসে শাসন পরিবর্তনের পর থেকে নাসা গ্রুপের কারখানা বন্ধ হয়ে রয়েছে এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধে অক্ষমতা দেখা দিচ্ছে, যার মোট পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা বলে অনুমান করা হয়। এই আর্থিক সংকটের ফলে গ্রুপের সম্পদ বিক্রি এবং বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা ব্যবসা ও বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হলে, কর্মীদের বেতন ও সুবিধা দ্রুত পরিশোধের সম্ভাবনা বাড়বে, যা শ্রম বাজারে অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হবে। তবে, সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়া যদি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক না হয়, তবে বাজারে অতিরিক্ত সম্পদ সরবরাহের ঝুঁকি এবং সম্পদের মূল্যের হ্রাস ঘটতে পারে।

ব্যাংকিং সেক্টরে, নাসা গ্রুপের ঋণ পরিশোধে অগ্রগতি না হলে, ঋণদাতাদের ক্ষতি বাড়তে পারে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণদানের মানদণ্ড কঠোর হতে পারে। একই সঙ্গে, রিয়েল এস্টেট বাজারে গ্রুপের সম্পদ বিক্রয় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তবে তা সম্পদের অবস্থান ও মূল্য নির্ধারণের ওপর নির্ভরশীল।

দীর্ঘমেয়াদে, যদি নাসা গ্রুপের সম্পদ বিক্রয়ের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধ সম্পন্ন হয়, তবে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পে কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখা যাবে। অন্যদিকে, সম্পদ হ্রাস এবং আর্থিক চাপের ফলে গ্রুপের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা সীমিত হতে পারে, যা শিল্পের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলবে।

সারসংক্ষেপে, সরকার ও আদালতের সমন্বয়ে নাসা গ্রুপের সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ কর্মীদের বকেয়া মেটাতে এবং আর্থিক সঙ্কট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। তবে, এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, বাজারের প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী শিল্পের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সতর্ক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments