কুরিগ্রাম জেলার সরকারি আবাসিক বাসভবনে বসবাসরত ৭০‑এর দশকের বৃদ্ধ কৃষিকাজ‑অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী আনছার আলীর বিরুদ্ধে ২.২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে তিনি রিক্রুটিং এজেন্সি চালু করে উমরাহ টিকিটের প্রতারণা করেছেন এবং এক সপ্তাহ জেলখানায় আটক ছিলেন।
আনছার আলী কুড়িগ্রামের এক গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, জীবনের বেশিরভাগ সময় কৃষি ও গাড়ি চালানোর কাজেই কাটিয়েছেন। পূর্বে তার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন ছিল না এবং তিনি কখনো নিজে ব্যাংকিং লেনদেন করেননি।
প্রতারণা চক্রের সূচনা হয় যখন তার ভোটার আইডি ব্যবহার করে কুড়িগ্রাম পূবালী ব্যাংকে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। একই ঠিকানা, কুড়িগ্রাম কলেজ মোড়, ব্যবহার করে ‘আনছার আলী এয়ার ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সি গঠন করা হয়।
এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উমরাহ পালনের অফার দিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়। বিজ্ঞাপন দেখার পর রাজবাড়ী সদর উপজেলার শিক্ষক আবুল হাসান এজেন্সির প্রদত্ত নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং আটজনের জন্য সৌদি আরবে উড়ান টিকিটের ব্যবস্থা চায়।
প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৭৩,৫০০ টাকা নির্ধারিত হয়, মোট খরচ প্রায় ৫,৮৮,০০০ টাকা। তবে শিক্ষক আবুল হাসান প্রথমে ২,২০,০০০ টাকা কুড়িগ্রাম পূবালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৯ অক্টোবর রাজবাড়ী ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠান।
টিকিটের নিশ্চিতকরণ পাওয়ার পর শিক্ষক টাকার পরিমাণ সম্পূর্ণভাবে স্থানান্তর করেন, কিন্তু পরে টিকিটগুলো বাতিল হয়ে যায়। টিকিট না পাওয়ায় তিনি সন্দেহ করেন এবং ২০ অক্টোবর রাজবাড়ী আদালতে এ বিষয়ে প্রতারণা মামলায় আবেদন করেন।
অভিযুক্তের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুসন্ধান করে পুলিশ ওয়্যারেন্ট জারি করে এবং আনছার আলীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারির পর তাকে এক সপ্তাহ জেলখানায় রাখা হয়, এরপর জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আদালতে হাজির হতে হয়।
শিক্ষক আবুল হাসান জানান, “এজেন্সির বিজ্ঞাপনে দেওয়া নম্বরে কথা হলে তারা আমাকে টিকিট দেখায়, নিশ্চিত হয়ে টাকা পাঠাই, কিন্তু পরে টিকিট বাতিল হয়েছে। আমি বুঝতে পারি, আমি প্রতারকের জালে পড়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আনছার আলীকে আমি আগে কখনো দেখিনি।”
আনছার আলী নিজের কথা বলেন, “নভেম্বর মাসে হঠাৎ পুলিশ এসে আমাকে জেলখানায় নিয়ে যায়। জেলখানা থেকে বের হয়ে জানি আমার বিরুদ্ধে আত্মসাতের মামলা দায়ের হয়েছে। আমি কখনো পূবালী ব্যাংকে গিয়েছি না এবং কোনো অ্যাকাউন্টও খুলিনি।” তিনি দাবি করেন যে তার নাম ও পরিচয় চুরি হয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, ভোটার আইডি ও ঠিকানা ব্যবহার করে গৃহহীন ব্যক্তিদের নামের নিচে কালো ব্যবসা চালানো একটি সাধারণ পদ্ধতি। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে এধরনের রিক্রুটিং এজেন্সি সামাজিক মিডিয়ায় উমরাহ ও হজের অফার দিয়ে গ্রাহককে আকৃষ্ট করে, পরে টিকিট না দিয়ে টাকা আত্মসাত করে।
বর্তমানে কুরিগ্রাম থানা ও রাজবাড়ী জেলা আদালত মামলাটি পর্যবেক্ষণ করছে। আনছার আলীর বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়া চলমান, এবং আদালত থেকে পরবর্তী শোনানির তারিখ জানানো হবে। মামলার ফলাফল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাংকিং তথ্য ও পরিচয় নথি সুরক্ষার গুরুত্ব পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের সতর্কতা বাড়াতে এবং অননুমোদিত লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছে।



