কারাচি শহরের বৃহত্তম শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজা-তে শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বিশাল অগ্নিকাণ্ডে আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে একজন দমকল কর্মীও অন্তর্ভুক্ত। আগুনের ফলে শত শত মানুষ বিপদে পড়ে, এবং এখনও বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।
গুল প্লাজা প্রায় ১,২০০টি দোকান সমন্বিত একটি বিশাল কাঠামো, যার মোট এলাকা প্রায় ৮,০০০ বর্গমিটার। এই বিশাল শপিং সেন্টারটি শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত, এবং আগুনের তীব্রতা পুরো ভবনকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করে ফেলেছে।
আগুনের শিখা রাতের অন্ধকারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং দমকল দলকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। শিখা নিভে যাওয়ার পরেও ধোঁয়া এবং ধ্বংসাবশেষের গন্ধ শহরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে, যা উদ্ধারকর্মীদের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
অগ্নিকাণ্ডে আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যার মধ্যে একজন দমকল কর্মীও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া কমপক্ষে বিশজনের গুরুতর আঘাত হয়েছে এবং তারা শহরের সিভিল হাসপাতালের তীব্র সেবায় ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থা গুরুতর, তাই বিশেষ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
পরিবারের জানাবার জন্য গুল প্লাজা ধ্বংসাবশেষের চারপাশে ৫৮ জনের নাম মিসিং তালিকায় যুক্ত হয়েছে। শহরের প্রশাসন একটি নিবন্ধন ডেস্ক স্থাপন করে নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহ করছে এবং পরিবারগুলোকে নিয়মিত আপডেট প্রদান করা হচ্ছে।
বিল্ডিংয়ের কিছু অংশ ধসে পড়ার ফলে ধ্বংসাবশেষের গুছিয়ে রাখার কাজ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ু চলাচল না হওয়ায় ধোঁয়া জমে রয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যার সৃষ্টি করছে এবং কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ হিসেবে ভবনের ভিতরে প্লাস্টিক ফোম, কাপড় এবং পারফিউমের মতো দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে। এই উপকরণগুলো শিখা বাড়িয়ে তুলেছে এবং আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
রবিবারের সকাল পর্যন্ত ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া এখনও বেরিয়ে আসছে, এবং ভবনের অবশিষ্ট অংশগুলো আরও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত ধসের ফলে আরও প্রাণহানি না হয়।
শহরের পুলিশ সার্জন গুল প্লাজা থেকে ছয়টি দেহ সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং আহতদের সংখ্যা কমপক্ষে বিশজন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই ঘটনা একটি বৃহৎ দুর্যোগের রূপ নেয়, ফলে পুলিশ মসৃণভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রোটোকল প্রয়োগ করছে।
গুল প্লাজার একজন দোকানদার জানান যে আগুনের সময় শত শত মানুষ ভবনের ভিতরে ছিলেন। তিনি বলেন, শপিং সেন্টারের দোকানগুলো আগুনে পুড়ে যাওয়ায় পণ্য বের করা সম্ভব হয়নি এবং এখনও অনেক মানুষ ভিতরে আটকে আছে।
অভ্যন্তরীণ তদন্তের জন্য পুলিশ ও দমকল বিভাগ একটি বিশেষ ফোরেন্সিক টিম গঠন করেছে, যা আগুনের মূল কারণ এবং দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোর করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
এখনো উদ্ধারকর্ম চলমান, এবং শহরের প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ শপিং পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



