22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরান প্রেসিডেন্টের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের হুঁশিয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রত্যাখ্যান

ইরান প্রেসিডেন্টের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের হুঁশিয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রত্যাখ্যান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৮ জানুয়ারি রোববার সামাজিক মিডিয়া এক্স-এ একটি বার্তা দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর কোনো আক্রমণকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঘোষণা হিসেবে গণ্য করা হবে বলে সতর্কতা জানিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবার ইঙ্গিত দিয়ে ইরানের নিরাপত্তা নীতির দৃঢ়তা প্রকাশ করেছেন।

পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা তার কোনো মিত্র ইরানের শীর্ষ নেতা খামেনির লক্ষ্য করে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই অবস্থান থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ইরান এমন কোনো আক্রমণকে সহ্য করবে না এবং তার প্রতিক্রিয়া কঠোর হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের ইরানির অর্থনৈতিক কষ্টের প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের শত্রুতা এবং নিষেধাজ্ঞা ইরানের জনগণের আর্থিক দুরবস্থার মূল কারণ। এই নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতার ফলে ইরানের নাগরিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই সতর্কবার্তার আগে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের মতে, ইরানে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন এবং তিনি এই দাবি পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানীয় সামাজিক নেটওয়ার্কে বিভিন্ন পোস্টে ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তি ও প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুর দায়িত্ব ট্রাম্পের ওপর আরোপ করা হয়। এই পোস্টগুলোতে ট্রাম্পকে ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দোষারোপ করা হয়, যা ইরানীয় সরকারকে আরও রাগান্বিত করে।

পেজেশকিয়ান ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের নিরাপত্তা নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিগুলোকে অগ্রাহ্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের হুমকি স্বীকার করবে না এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার অধিকার রক্ষা করবে।

ইরানের সরকার এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির দিকে ইঙ্গিত করে, যা পূর্বে বহুবার নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের তেল রপ্তানি, আর্থিক লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ করেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এখনও ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পেজেশকিয়ানের মন্তব্য অনুসারে, ইরান এই ধরনের চাপকে কেবলমাত্র অর্থনৈতিকভাবে নয়, সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।

এই পরিস্থিতিতে, ইরানের পার্লামেন্ট ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও সতর্কতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং দেশের সীমানা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

ভবিষ্যতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের সুযোগ কতটুকু থাকবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগের বিষয়। বর্তমান সতর্কবার্তা ইরানের স্বার্থ রক্ষার জন্য দৃঢ় অবস্থানকে পুনরায় জোরদার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এই ঘটনাগুলো ইরানীয় জনগণের উপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে। পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, ইরানের জনগণকে এই কঠিন সময়ে একত্রিত হয়ে দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য সমর্থন দিতে হবে। এভাবে ইরানীয় সরকার তার জাতীয় সংহতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments