১৬ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৩ নম্বর বিশালবাড়িয়া ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে অবস্থিত পিসি বারুইখালি ধানসাগর গ্রামে বাস করা রেখা বেগমের পরিবার খালের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানায়। গ্রামটি ভোলা নদীর পুরনো প্রবাহের অবশিষ্ট জমিতে গড়ে উঠেছে; নদীটি আর প্রবাহিত না হয়ে বসতিতে রূপান্তরিত হয়েছে, ফলে গ্রাম ও সুন্দরবনের মধ্যে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্রামটি সুন্দরবন থেকে ভোলা নদীর মাধ্যমে আলাদা, তবে এখন নদীর বদলে জমি বসে থাকায় গ্রামবাসীরা প্রাকৃতিক বাধা অতিক্রম করতে পারছে না। রেখা বেগমের পরিবারও প্রায় ত্রিশ বছর ধরে এই জমিতে বসবাস করছে। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন, চারটি সন্তান রয়েছে; দুই মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন এবং বাকি দুজন সন্তান এখনও বাড়িতে বসে। তিনি বলেন, জীবনে কখনো বাঘ দেখেননি এবং সুন্দরবনের দিকে কোনোবার নদী পার করে গেছেন না।
রেখা বেগমের স্বামী নূরু ফরাজি ভোটের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আগের বার ভোট দিতে গেছি, এবার আবার দেব, যেন ভোটের প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়।” তিনি ভোটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রত্যাশা প্রকাশ করেন এবং গ্রামটির অবকাঠামো উন্নত করার আহ্বান জানান। নূরু ফরাজি আরও যোগ করেন, “ভোট না দিলে কোনো পরিবর্তন হবে না, তাই ভোট দিই।”
নূরুর বড় ভাই রুহুল আমিন ফরাজি একই দিনে উপস্থিত হয়ে ভোটের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “ইনশা‑আল্লাহ এবারের ভোটে অংশ নেব, তবে সুষ্ঠু ভোটের জন্য মাঠে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি প্রয়োজন।” রুহুলের মন্তব্যে তিনি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার্থীরা না থাকলে কেউ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না।”
গ্রামবাসীরা একত্রে জানান, সরকার ও সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি। দীর্ঘদিন ধরে কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়ায় তারা হতাশ। এই পরিস্থিতিতে তারা নতুন সরকার বা নতুন সংসদ সদস্যের কাছে স্পষ্ট চাহিদা তুলে ধরছে: খালের ওপর সেতু নির্মাণ, যাতে গ্রাম ও সুন্দরবনের মধ্যে সহজে চলাচল সম্ভব হয় এবং কৃষি, পশুপালন, বাজারজাতকরণে সুবিধা আসে।
সেতুর নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামবাসীরা আশা করে যে, মহিষ ও গবাদি পশুদের সুন্দরবনে গিয়ে চারণের সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি শূকরের পালের আক্রমণ কমে যাবে। বর্তমানে শূকরের পাল গ্রামাঞ্চলের ফসল নষ্ট করে, যা কৃষকদের আয় হ্রাসের প্রধান কারণ। সেতু থাকলে গ্রামবাসীরা দ্রুত বাজারে পণ্য পরিবহন করতে পারবেন, ফলে অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গ্রামটির মত দূরবর্তী ও অবহেলিত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়ন না হলে ভোটের ফলাফল ও সরকারের জনপ্রিয়তা প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে বাগেরহাটের মতো প্রান্তিক অঞ্চলে সেতু, সড়ক, সেচ ইত্যাদি মৌলিক সুবিধা না থাকলে নির্বাচনের সময় ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই দাবির ওপর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তবে গ্রামবাসীরা আশাবাদী যে, নতুন সংসদ সদস্যের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে এবং সেতু নির্মাণের জন্য তহবিল বরাদ্দ হবে। তারা দাবি করে, “যদি সরকার আমাদের সমস্যার সমাধান না করে, তবে আমরা অন্য উপায়ে আমাদের অধিকার রক্ষার চেষ্টা করব।”
সর্বোপরি, রেখা বেগম ও তার পরিবারের দাবি গ্রামটির মৌলিক অবকাঠামো ঘাটতি দূর করার দিকে কেন্দ্রীভূত। সেতু নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন জীবনের মানোন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই দাবি যদি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তবে স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



