রাবাতের মরক্কো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে, সেনেগাল ১-০ স্কোরে মরক্কোকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট পরিধান করেছে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি ৯৪তম মিনিটে পাপে গেয়ের শুটে নেমে আসে, যা অতিরিক্ত সময়ের শেষের দিকে দলকে বিজয়ী করে তুলেছে।
প্রথম ৯০ মিনিটে দু’দলই গোল না করে সমানভাবে খেলায় লিপ্ত ছিল। তবে অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয় মোড় নেয়, যখন রেফারি জ্যাকস এনদালা ৯৮ মিনিটে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজকে পেনাল্টি দেওয়ার সংকেত দেন। এই পেনাল্টি দেওয়া হয় সেনেগালের ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফের ওপর ফাউলের পর।
পেনাল্টি দেওয়ার আগে, সেনেগালের আক্রমণকারী ইসমাইলা সারের গোলটি বাতিল হওয়ায় কোচ পাপে থিয়াও রাগান্বিত ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের পর তিনি দলকে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন, যা ম্যাচের প্রথম বড় বিরতির কারণ হয়।
অনেক খেলোয়াড়ই তৎক্ষণাৎ মাঠ ত্যাগ করে, তবে লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার সাদিও মানে মাঠে থেকে সহকর্মীদের খেলতে উৎসাহিত করেন। তার এই উদ্যোগের ফলে দলটি কিছু সময়ের জন্য অচল অবস্থায় রইল, এবং খেলা প্রায় সতেরো মিনিটের জন্য থেমে থাকে।
ম্যাচ পুনরায় শুরু হওয়ার পর, মরক্কোর দিয়াজ পেনাল্টি শট নিতে এগিয়ে যান। তবে সেনেগালের গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্ডি শটটি চমৎকারভাবে আটকে দেন, ফলে পেনাল্টি ব্যর্থ হয়। রেফারি তখন পূর্ণ সময়ের বাঁশি বাজিয়ে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান।
অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে, সেনেগালের মিডফিল্ডার পাপে গেয়ের শুটে গোল নেটের জালে গিয়ে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে। এই গোলটি দলের জন্য ২০২১ সালের পর দ্বিতীয় আফকন শিরোপা নিশ্চিত করে।
ম্যাচের পর মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগুরাই সেনেগালের আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘আফ্রিকার জন্য অসম্মানজনক’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন প্রতিক্রিয়া কন্টিনেন্টের স্পোর্টস সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সেনেগালের কোচ থিয়াওয়ের জন্য সংবাদ সম্মেলন বাতিল করা হয়, কারণ মাঠে ঘটিত বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা অতিরিক্ত ছিল। পরে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন, দলকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া তার ভুল ছিল এবং মুহূর্তের উত্তেজনায় তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।
সেনেগালের এই জয় দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করে, যেখানে দলটি ২০২১ সালের পর আবারও মহাদেশীয় শিরোপা জিতেছে। এখন দলটি ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর আফ্রিকান ফুটবলের মানচিত্রে তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।



