রবিবার সন্ধ্যা প্রায় ছয়টায় ঢাকা‑ময়মনসিংহ মহাসড়কের হাজির বাজার এলাকায় একটি কার্টন থেকে নবজাতকের দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় পুলিশ জানায়, দুই যুবক গতি শীঘ্রই থামিয়ে শিশুটিকে হাইওয়ের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে ঘটনাটির তথ্য পাওয়া যায়। হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, কার্টনটি তুলে নিয়ে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর উপস্থিত চিকিৎসক শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করে মৃত্যুর ঘোষণা দেন। শিশুর দেহ পরে ভালুকা মডেল থানায় পাঠানো হয়।
ভালুকা ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি মেহেদী মাসুদ জানান, কল পাওয়ার পরই দল ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। দেহটি তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে মৃত ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, দুই যুবক মোটরসাইকেল চালিয়ে হাইওয়ের পাশে গিয়ে শিশুটিকে কার্টনে রেখে চলে যায়। তাদের কাজ দেখার পর কিছু লোক ঘটনাটি নিকটবর্তী বাসিন্দাদের জানায়।
পরে কিছু লোক শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় দেখতে পায়, তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও শিশুটি বাঁচাতে পারেনি। শিশুর অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ দল ঘটনাস্থলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও সিসিটিভি রেকর্ড সংগ্রহ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ঘটনাটির সময় উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের বিবরণ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অভিযুক্ত দুই যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি, তবে পুলিশ তাদের সন্ধানে সক্রিয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ধরনের শিশুর ত্যাগের ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝে মাঝে ঘটতে দেখা যায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসব ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট।
পুলিশের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি হটলাইন ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। স্থানীয় সমাজও শিশুর ত্যাগের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানাচ্ছে।
এই ঘটনার পর, ভালুকা থানা ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সংস্থা একত্রে পরিবার ও সমাজকে শিশুর সুরক্ষা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে।



