সেনেগাল জাতীয় দল আফ্রিকান নেশনস কাপের চূড়ান্ত ম্যাচে ১-০ স্কোরে মরক্কোকে পরাজিত করে শিরোপা অর্জন করেছে। পাপে গেয়ের ৯৪তম মিনিটে গোলটি ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে, যখন অতিরিক্ত সময়ে দলটি শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করে। এই জয়টি প্রিন্স মুলায় আব্দেল্লাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় দলের সমর্থকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।
ম্যাচের নিয়মিত সময়ের শেষের দিকে ২৪তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পেনাল্টি সুযোগে রিয়াল মাদ্রিদ উইংার প্যানেঙ্কা শৈলীর চিপটি এডুয়ার্ড মেন্ডি সহজে রক্ষা করেন। দিয়াজের শটটি দীর্ঘ সময়ের বিলম্বের পর নেওয়া হয়, যা তাকে বিভ্রান্ত করে।
পেনাল্টি দেওয়া হয় কংগো-ভিত্তিক রেফারি জঁ-জ্যাক ন্ডালা, যিনি ভিএআর চেকের পর সিদ্ধান্ত নেন। মরক্কোর খেলোয়াড় এল হাজি মালিক দিউফের চ্যালেঞ্জের পর দিয়াজকে ফাউল করা হয় বলে রেফারিরা পেনাল্টি প্রদান করেন। মরক্কো দলটি ছবিগুলি পুনরায় দেখার জন্য জোরালো আপত্তি জানায়, তবে রেফারি সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
পেনাল্টি মিসের পর সেনেগালের খেলোয়াড়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। গিয়ে বলছেন, “পেনাল্টি আগে আমরা অন্যায়ের অনুভূতি পেয়েছি, রেফারিরা ভিএআর ব্যবহার করেননি। সাদিও আমাদের ফিরে আসতে বলেছিলেন, আমরা আবার মাঠে ফিরে গিয়ে মনোযোগ বজায় রাখি এবং শেষ পর্যন্ত জয় অর্জন করি।”
সাদিও মানে, যিনি ম্যাচের শেষের দিকে দলকে পুনরায় সংগঠিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তার কথায় সেনেগালীয় খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়ে। মেন্ডি পেনাল্টি রক্ষা করার পর দলটি মনোযোগী থাকে এবং গেয়ের গোলের জন্য সুযোগ তৈরি করে।
অতিরিক্ত সময়ে গেয়ের ৯৪তম মিনিটে করা শটটি সরাসরি নেটের পিছনে গিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে। এই গোলটি ম্যাচের একমাত্র স্কোর হয়ে দাঁড়ায় এবং সেনেগালের জয়কে চূড়ান্ত করে।
গোলের পর কিছু সময়ে সেনেগালের কিছু খেলোয়াড় মাঠ থেকে বেরিয়ে যায়, যা ম্যাচের শেষের দিকে বিশৃঙ্খলা বাড়ায়। স্টেডিয়ামের বিপরীত পাশে থাকা সেনেগাল সমর্থকরা চেয়ার ও অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করে।
পুলিশ ও স্ট্যুয়ার্ডদের গঠন করা বড় বাধা অবশেষে ভিড়কে নিয়ন্ত্রণে আনে, এবং সমর্থকদের ক্রোধ ধীরে ধীরে প্রশান্ত হয়। পেনাল্টি রক্ষার পর তাদের উত্তেজনা আনন্দে রূপান্তরিত হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে সেনেগালকে একটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্তে রাগ হয়। ইসমাইলা সারকে দ্বিতীয় অতিরিক্ত মিনিটে গোল করার পর রেফারি তা অস্বীকার করেন, যা দলের মধ্যে বিরক্তি বাড়িয়ে দেয়।
দিয়াজের পেনাল্টি মিস এবং মেন্ডির রক্ষা করা শটের পর সেনেগাল আবার শক্তি পায় এবং অতিরিক্ত সময়ে গেয়ের গোলের মাধ্যমে শিরোপা জয় করে।
এই জয়টি সেনেগালের জন্য দীর্ঘ সময়ের পর প্রথম এএফকন শিরোপা হিসেবে চিহ্নিত হয়। দলটি এখন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে সেনেগালীয় ফুটবল সংস্থা জয় উদযাপনের জন্য জাতীয় স্তরে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করেছে, যেখানে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ উপস্থিত থাকবে।



