বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বুধবার নতুন টুর্নামেন্ট সূচি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম পর্যায় সম্পূর্ণভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়। পরিবর্তে সিলেট পর্যায়কে জানুয়ারি ১২ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এবং সিলেটের পর টুর্নামেন্ট ঢাকা শহরে স্থানান্তরিত হবে। নতুন সূচি অনুযায়ী ঢাকা থেকে ম্যাচ শুরু হবে জানুয়ারি ১৫ তারিখে।
আগে সিলেট পর্যায়ের শেষ তারিখ ছিল জানুয়ারি ২, আর চট্টগ্রাম পর্যায়ের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল জানুয়ারি ৫ থেকে ১২ পর্যন্ত। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী টুর্নামেন্টের দুইটি পর্যায় ধারাবাহিকভাবে চলবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে লজিস্টিক্যাল সমস্যার পাশাপাশি জাতীয় দলের আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা নতুন সূচি গঠনে প্রভাব ফেলেছে।
নতুন সূচি অনুযায়ী সিলেট টাইটান্স তাদের লিগ পর্যায়ের দশটি ম্যাচের মধ্যে নয়টি সিলেটেই খেলবে, আর চট্টগ্রাম রয়্যালসকে শেষের তিনটি লিগ ম্যাচ ঢাকা শহরে একসাথে করতে হবে। সিলেটের শেষ ম্যাচের পর টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলো—কোয়ালিফায়ার, এলিমিনেটর এবং ফাইনাল—আগের মতোই নির্ধারিত থাকবে, যার ফাইনাল জানুয়ারি ২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
বিসিবি সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, চট্টগ্রাম পর্যায়ে টুর্নামেন্ট স্থানান্তরের লজিস্টিক্যাল চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি জাতীয় দলের ২৬ তারিখে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের জন্য রওনা হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। দলের কোচ ও স্টাফের সঙ্গে প্রস্তুতি সময় নিশ্চিত করতে টুর্নামেন্টের সময়সূচি সাময়িকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।
ডিসেম্বর ৩০ তারিখে নির্ধারিত কিছু ম্যাচ খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর স্থগিত করা হয়েছিল। এই ম্যাচগুলোকে নতুন করে জানুয়ারি ৪ তারিখে সিলেটের মাঠে অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে সিলেট পর্যায়ের মোট ম্যাচ সংখ্যা বাড়ে এবং টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
সিলেট টাইটান্সের জন্য নতুন সূচি অনুযায়ী তারা ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা ক্যাপিটালসের সঙ্গে সিলেটে ১ পিএম-এ মুখোমুখি হবে, এবং একই দিন রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ ৬ পিএম-এ অনুষ্ঠিত হবে। ২ জানুয়ারি ঢাকা ক্যাপিটালস চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে সিলেটে ২ পিএম-এ এবং সিলেট টাইটান্স রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে ৭ পিএম-এ খেলবে।
১ জানুয়ারি থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সিলেটের মাঠে মোট আটটি ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে, যার মধ্যে সিলেট টাইটান্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মুখোমুখি, এবং ঢাকা ক্যাপিটালস ও রংপুর রাইডার্সের দ্বন্দ্ব অন্তর্ভুক্ত। ৫ জানুয়ারি নোয়াখালী এক্সপ্রেস সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে সিলেটে ১ পিএম-এ, এবং চট্টগ্রাম রয়্যালস রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে ৬ পিএম-এ খেলবে।
৭ জানুয়ারি ঢাকা ক্যাপিটালস নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সঙ্গে সিলেটে ১ পিএম-এ, এবং ৮ জানুয়ারি নোয়াখালী এক্সপ্রেস রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে একই সময়ে ম্যাচ করবে। একই দিনে ঢাকা ক্যাপিটালস সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে ১ পিএম-এ মুখোমুখি হবে। এই ধারাবাহিকতা সিলেট পর্যায়কে জানুয়ারি ১২ পর্যন্ত চালিয়ে যাবে, যার পর টুর্নামেন্ট ঢাকা শহরে স্থানান্তরিত হবে।
সিলেট পর্যায়ের শেষের দিকে চট্টগ্রাম রয়্যালসের জন্য ঢাকা শহরে তিনটি ধারাবাহিক ম্যাচের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা দলকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে। কোয়ালিফায়ার এবং এলিমিনেটর ম্যাচের তারিখ ও সময়সূচি পূর্বের মতোই রয়ে গেছে, ফলে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে। শেষ পর্যন্ত জানুয়ারি ২৩ তারিখে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিজয়ী দলকে BPL শিরোপা প্রদান করা হবে।
বিসিবি এই পরিবর্তনগুলোকে টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে। নতুন সূচি অনুসারে খেলোয়াড়, কোচ এবং স্টাফ সবাই যথাযথ সময়ে প্রস্তুতি নিতে পারবে, এবং দর্শকরা সিলেট ও ঢাকা উভয় শহরে ধারাবাহিকভাবে ক্রিকেটের উচ্ছ্বাস উপভোগ করতে পারবেন।



