28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসানারী ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: ঢাকা ফোরাম উদ্যোগের নীতি সংলাপে মূল বক্তব্য

নারী ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: ঢাকা ফোরাম উদ্যোগের নীতি সংলাপে মূল বক্তব্য

ঢাকা ফোরাম উদ্যোগের আয়োজনে গতকাল “Women Shaping the Nation: Policy, Possibility & the Future of Bangladesh” শিরোনামের নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এই ইভেন্টে ব্যবসা, নীতি ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং নারী শ্রমশক্তির ব্যবহারকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হিসেবে তুলে ধরেন।

বের্জ পেইন্টস বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রূপালি চৌধুরী উল্লেখ করেন, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণে অবশিষ্ট বাধাগুলো দূর করা জরুরি। তিনি বলেন, মানসিক বাধা ও নেতৃত্বের সঠিক পথের অভাবের ফলে অনেক যোগ্য নারী সিইও পদে পৌঁছাতে পারেন না।

কর্মস্থল থেকে পরিবারিক দায়িত্বের জন্য নারীরা প্রায়ই বিরতি নিতে বাধ্য হন, আর ফিরে আসার পর পুনরায় শূন্য থেকে শুরু করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। রূপালি চৌধুরী মেটারনিটি লিভ, শিশু যত্ন কেন্দ্র এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন, যেখানে কোম্পানি সরাসরি সেবা দিতে না পারলেও সমষ্টিগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এছাড়া মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদানকেও তিনি গুরুত্ব দেন।

কর্পোরেট স্তরে নারীর নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীরা যেন আলোচনায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ও নেতৃত্বে সমানভাবে অংশ নিতে পারে। তার কোম্পানি ইতিমধ্যে স্বাধীন পরিচালকের বোর্ডে ৩০ শতাংশ নারী নিশ্চিত করার নীতি গ্রহণ করেছে, যা শিল্পে একটি উদাহরণস্বরূপ পদক্ষেপ।

বিএনপি চেয়ারম্যানের কন্যা জাইমা রহমানের মূল বক্তৃতায় তিনি জোর দেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র শিক্ষার ঘর, অফিস বা নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, সত্যিকারের অগ্রগতি চাইলে এই পরিবর্তনগুলো ঘরের মেঝে, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও মানসিকতা পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।

জাইমা রহমান উল্লেখ করেন, নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন একা সমতা গড়ে তুলতে পারে না; সামাজিক রীতি, দৈনন্দিন প্রত্যাশা ও মানসিকতা সমান না হলে ক্ষমতায়ন নাজুকই থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, লিঙ্গ সমতা কেবল নারীর বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বাংলাদেশে নারীরা এখনও গৃহস্থালি ও অবৈতনিক যত্ন কাজের প্রায় ৮৫ শতাংশই পালন করেন, ফলে তাদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ সীমিত থাকে। এই অপ্রতুলতা শ্রম বাজারে দক্ষ মানবসম্পদের ব্যবহারকে বাধাগ্রস্ত করে এবং জিডিপি বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে হ্রাস করে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, যদি নারীর শ্রমশক্তি সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে দেশের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে। তাই নীতি নির্ধারক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে নারীর কর্মসংস্থান, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

সংলাপের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন, যে নারীর ক্ষমতায়নকে অর্থনৈতিক নীতি, কর্পোরেট সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের পথে অগ্রসর হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments