19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষামুসলিম সাহিত্য সমাজের ১০০ বছর পূর্তি ও শিখা পত্রিকার ঐতিহাসিক ভূমিকা

মুসলিম সাহিত্য সমাজের ১০০ বছর পূর্তি ও শিখা পত্রিকার ঐতিহাসিক ভূমিকা

মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠা ও শিখা পত্রিকার সূচনা ১৯২৭ সালে ঘটেছিল; এই বছর সমাজের শতবর্ষী বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে। ১৯২৭ থেকে শুরু হওয়া এই সাহিত্যিক সংগঠন ও তার প্রকাশনা বাংলা বৌদ্ধিক ক্ষেত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের গঠনকালীন সময়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির আধুনিকীকরণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শিখা পত্রিকা, যা একই বছরে প্রকাশিত হয়, তরুণ লেখক-চিন্তাবিদদের জন্য একটি প্রকাশের মঞ্চ সরবরাহ করে এবং সমসাময়িক সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সাহিত্যিক ভাষায় উপস্থাপন করে।

এই শতবর্ষী উপলক্ষ্যে সমাজের বিভিন্ন শাখা ও সংশ্লিষ্ট গবেষকরা একত্রিত হয়ে স্মরণীয় গ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মোরশেদ শফিউল হাসান নামের একজন সংগঠক, লেখকদের কাছ থেকে স্মরণীয় নিবন্ধ সংগ্রহের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

লেখক হিসেবে আমি, যদিও গবেষক নই, তবু এই আহ্বান গ্রহণ করে একটি প্রবন্ধ রচনা করেছি। আমার কাজ মূলত অতীতের আলোচনাগুলোকে পুনরায় বিশ্লেষণ করে আজকের গ্লোবালাইজড বাংলা পাঠকের কাছে উপস্থাপন করা। আমি নতুন কোনো ঐতিহাসিক তথ্য যোগ করতে পারিনি, তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে কিছু দৃষ্টিকোণ তুলে ধরতে চেয়েছি।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বকে আমি প্রথমবার দেখেছি যখন আমি শৈশবে, পার্টিশনের পর ১৯৫০-এর দশকে, কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় বাস করতাম। তিনি তার স্ত্রীসহ টারাক দত্ত রোডে একটি বাড়িতে থাকতেন। ঐ সময়ের এই দৃশ্য আমার স্মৃতিতে আজও স্পষ্ট।

একই রোডে আমার দুই চাচা-চাচী, যারা পূর্ববঙ্গ থেকে নতুন করে আসা ছিলেন, তাদের সঙ্গে আমার দাদা-দাদি এবং মা’র চাচাতো ভাই-বোনও বাস করতেন। এই পারিবারিক সমাবেশের মাধ্যমে আমি সরাসরি মুসলিম সাহিত্য সমাজের পরিবেশ ও তার সাংস্কৃতিক প্রভাব অনুভব করতে পেরেছি।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের কার্যক্রম বাংলা শিক্ষার ক্ষেত্রে বহু দিক থেকে অবদান রেখেছে। শিখা পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ ও কবিতা শিক্ষার্থীদের ভাষা দক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাধারা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। তদুপরি, সমাজের সদস্যরা বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজে সাহিত্যিক কর্মশালা ও আলোচনা সভা আয়োজন করে তরুণদের সৃজনশীলতা উন্মোচন করেছে।

আজকের পাঠকরা যখন এই শতবর্ষী যাত্রা সম্পর্কে জানবেন, তখন অতীতের আলোচনাকে বর্তমানের প্রাসঙ্গিক সমস্যার সঙ্গে তুলনা করে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারেন। আমার লক্ষ্য ছিল এই সংযোগ স্থাপন করা, যাতে বাংলা আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির বিকাশে মুসলিম সাহিত্য সমাজের ভূমিকা পুনরায় মূল্যায়ন করা যায়।

শিক্ষা ও সাহিত্যকে একত্রিত করে সমাজের এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্মরণ করা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হতে পারে। আপনি কি আপনার শিক্ষার পথে কোনো সাহিত্যিক সংগঠনের প্রভাব অনুভব করেছেন? আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে অন্যদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচিত হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments