ইলেকশন কমিশন গতকাল ৪২১ প্রার্থীর মনোনয়ন পুনরায় স্বীকৃতি দিয়েছে, যাঁরা তাদের বাতিল হওয়া নোমিনেশন নিয়ে আপিল করেছিল। ক্যাম্পেইনিং ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে, তাই এই সিদ্ধান্ত ভোটের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আবেদনগুলো ১০ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত শোনা হয়েছে।
মোট ৬৪৫টি আপিলের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থীর মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পূর্বের দুইটি নির্বাচনের তুলনায় উচ্চতর অনুপাত। এই পুনঃস্থাপন প্রক্রিয়ায় স্বাধীন প্রার্থীদের জন্য বিশেষ ছাড়ও প্রদান করা হয়েছে, যাতে ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ বিস্তৃত হয়।
চিফ ইলেকশন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন শোনার শেষে সকল স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা চেয়েছেন, যাতে ভোটিং প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, “এটি শেষ নয়; অনেকেই আমাদের সমালোচনা করবে,” এবং সকল পক্ষকে শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাধীন প্রার্থীদের জন্য ভোটার স্বাক্ষরের এক শতাংশের শর্ত হ্রাস করা হয়েছে। কমিশন এই পদক্ষেপকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে, যাতে প্রত্যেক নাগরিকের ভোটের অধিকার পূর্ণভাবে ব্যবহার করা যায়।
ঋণডিফল্টার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে, ইলেকশন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আইন অনুমোদন করলে কঠিন হৃদয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, “আইনের অনুমতি থাকলে আমরা এই ধরনের ব্যতিক্রম করতে পারি,” যা নির্বাচনী ন্যায়বিচার বজায় রাখতে আইনগত সীমার মধ্যে কাজ করার ইঙ্গিত দেয়।
শুনানির শেষ দিনে ৬৩টি আপিল শোনা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি আবেদন সফলভাবে স্বীকৃত হয়েছে, ৩৫টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, একটি আপিল এখনও মুলতুবি রয়েছে, তিনটি আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং এক প্রার্থী শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম-৪ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী তার মনোনয়ন বজায় রাখতে পেরেছেন। রেজিস্ট্রেশন অফিসার (আরও) তার নথি বৈধ ঘোষণা করলেও, ইলেকশন কমিশনে আপিল দায়ের করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং আরওর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম-২-এ স্বতন্ত্র প্রার্থী সারওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। প্রথমে রেজিস্ট্রেশন অফিসার তার নথি বৈধ ঘোষণা করলেও, জামায়াত-ই-ইসলামি প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন একই সিটে তার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন। ইলেকশন কমিশনের শোনানির পর সারওয়ারের মনোনয়ন রদ করা হয়।
এই পুনঃস্থাপন ও বাতিলের ধারাবাহিকতা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে জোরদার করছে। পরবর্তী ধাপে প্রার্থীরা ক্যাম্পেইন চালিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবেন, আর ইলেকশন কমিশন ভোটের দিন পর্যন্ত সকল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় বজায় রাখবে।



