বিকাল ৯টায় লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর নং ১০ লেকচারার থেকে বক্তৃতা দেওয়া হবে, যেখানে সাম্প্রতিক সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে উদ্ভূত কূটনৈতিক সংকটের প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, অধিগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের আটটি মিত্র দেশের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এতে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্য অন্তর্ভুক্ত।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি যে, যদি এই দেশগুলো গ্রিনল্যান্ডের ওপর তার দাবি প্রত্যাখ্যান করে তবে শুল্ক আরোপ করা হবে। শুল্কের পরিমাণ ও প্রয়োগের পদ্ধতি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক হতে পারে।
একজন দীর্ঘদিনের পশ্চিমা কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের সরাসরি অর্থনৈতিক চাপের ব্যবহার ৮০ বছরের মধ্যে প্রথমবার দেখা যাচ্ছে। তিনি এটিকে ন্যাটো মিত্রদের ওপর রাজনৈতিক জবরদস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য অস্বাভাবিক।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী, যিনি এই পরিস্থিতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, শুল্ক আরোপকে ভুল পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ উভয় দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের ক্ষতি করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হবে।
ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রবিবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি এবং ন্যাটো সেক্রেটারি-জেনারেল সঙ্গে আলোচনা করেছেন, এরপর ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এই আলোচনায় গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখার বিষয়টি প্রধানত উঠে এসেছে।
লেবার পার্টির অভ্যন্তরে এই সংকটকে অতিরিক্ত চাপের উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্টির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকরা যুক্তি দেন, যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে “রিসেট” এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনই দেশের কূটনৈতিক প্রভাব বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি।
তবে, ইউরোপীয় মিত্রদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্টতা নেই। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না, কারণ তাদের বিকল্প সীমিত। অন্যদিকে, কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ইউরোপের কোনো প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক অবস্থান কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে স্পষ্ট যে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের দাবি এবং শুল্ক হুমকি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে ঐক্যের পরীক্ষা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে হবে, যেখানে তিনি শুল্ক আরোপের বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানাবেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন, পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরবেন।
বক্তৃতার পর, যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক দল আশা করছে যে, ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত আলোচনায় শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। তবে, এই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
সারসংক্ষেপে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের ইচ্ছা এবং শুল্ক হুমকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাজ্য এই সংকটে তার কূটনৈতিক ভূমিকা বজায় রাখতে চায়, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা গড়ে তোলার চেষ্টা করবে।



