ইন্দোরের গ্লেন্ডা স্টেডিয়ামে রবিবার সন্ধ্যায় শেষ ওডিআইতে নিউজিল্যান্ড ৩৭ বছর পর প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতেছে। সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারত দলকে ১৯১ রান ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং মধ্য‑ওভারে মাত্র একটিই উইকেট নিতে পেরেছে। ভারতের দলে জাস্টিপ্রিত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ড্য দুজনই অনুপস্থিত ছিল, তবে দলীয় ক্যাপ্টেন শুবমান গিলের মতে এই ঘাটতি তাদের পরাজয়ের কারণ নয়; তিনি বললেন, “আমরা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলাম, তবে তারা বলিং, ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ে আমাদের ছাড়িয়ে গিয়েছে।”
সিরিজের স্কোর ১-১ সমান থাকায় শেষ ম্যাচের ফলাফলই সিরিজের বিজয় নির্ধারণ করেছিল। গিলের আশা ছিল মধ্য‑ওভারগুলোতে দলটি ভালো পারফরম্যান্স দেখাবে, তবে ১১ থেকে ৪০ ওভারের সময় ভারত ১৯১ রান ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং শুধুমাত্র একটিই উইকেট নিতে পেরেছে। পুরো সিরিজে এই পর্যায়ে মোট ৯০ ওভার খেলা হয়েছে, যার মধ্যে আটটি উইকেট নেওয়া হয়েছে, গড়ে ৬৮.৩৭ রান প্রতি উইকেট এবং স্ট্রাইক রেট ৬৭.৫ ছিল।
মধ্য‑ওভারগুলোতে সমস্যার মূল কারণ ছিল স্পিনারদের পারফরম্যান্স। রবিন্দ্রা জাডেজা পুরো সিরিজে একটিও উইকেট নিতে পারেনি, যা তার বলিং ক্ষমতার অবনতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে কুলদীপ ইয়াদব তিনটি ম্যাচে তিনটি উইকেট পেয়েছেন, তবে তার গড় ৬০ রানের বেশি এবং স্ট্রাইক রেট ৫০। গিল কুলদীপের ওপর মন্তব্য করে বললেন, “কুলদীপের শেষ কয়েক বছর আমাদের জন্য স্ট্রাইক বোলার হিসেবে কাজ করেছে, তবে এই সিরিজে তিনি প্রত্যাশিত সংখ্যক উইকেট নিতে পারেননি। এই ধরনের সিরিজ আমাদের উন্নতির সুযোগ দেয়।”
জাডেজার সাম্প্রতিক ওডিআই রেকর্ডও উদ্বেগজনক। তিনি শেষ পাঁচটি ওডিআইতে মাত্র একটি উইকেটই পেয়েছেন এবং ২০২০ সালের পর থেকে কোনো অর্ধশতকও করেননি। তার ব্যাটিং ফর্মও ততটা উজ্জ্বল নয়, যা দলের সামগ্রিক ব্যালেন্সে প্রভাব ফেলেছে। গিল জাডেজার বর্তমান ফর্মের কথা উল্লেখ করে বললেন, “তিনি এখনও ভালো স্পর্শে আছেন, তবে উইকেটের সংখ্যা বাড়াতে হবে।”
নিউজিল্যান্ডের এই সিরিজ জয় তাদের আটটি প্রচেষ্টার পর প্রথম। দলটি ৩৭ বছর পর এই সাফল্য অর্জন করেছে, যা তাদের আন্তর্জাতিক শূন্য-ব্যাটিং রেকর্ডে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। এই বিজয়টি ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের টেস্ট দলে ভারতের বিরুদ্ধে ৩-০ শূন্য-ব্যাটিং সিরিজের ১৬ মাস পরের ঘটনা, যা দুই দলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্দেশ করে।
সিরিজের পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও, উভয় দলের ভক্তরা আগামী ম্যাচের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ভবিষ্যৎ মুখোমুখি হওয়া ম্যাচগুলোতে স্পিনারদের ফর্ম, মধ্য‑ওভার পারফরম্যান্স এবং ব্যাটিং ধারার উন্নতি সিরিজের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



