পেনসিলভানিয়ার অলেন্টাউন শহরে ল্যাটিনো সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ডেমোক্র্যাট, স্যাম নেগ্রন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেন। তিনি ভোট দেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক অবস্থা, বিশেষ করে ডিমের দাম বাড়া উল্লেখ করেন। নেগ্রন, যিনি ২০১৯ সালে ডেমোক্র্যাট থেকে রিপাবলিকান পার্টিতে পরিবর্তন করেন, তার মতামত বহু ল্যাটিনো ভোটারকে প্রভাবিত করেছে।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় ল্যাটিনো ভোটের সমর্থনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ফলাফল। ঐ নির্বাচনে ল্যাটিনো ভোটারদের মধ্যে ৪৬% ট্রাম্পকে সমর্থন করেন, যা কোনো রিপাবলিকান প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ শতাংশ। এই সমর্থন তার পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, যা ল্যাটিনো ভোটারদের মধ্যে অর্থনৈতিক অসন্তোষের প্রতিফলন।
ল্যাটিনো ভোটারগণ যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম অ-সাদা ভোটার গোষ্ঠী, মোট প্রায় ৩৬ মিলিয়ন মানুষ নিয়ে গঠিত। এই গোষ্ঠী বিভিন্ন বংশ, আয় স্তর এবং ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে গঠিত, তবে একত্রে তারা জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তাদের সমর্থন ট্রাম্পের জয়কে সম্ভব করেছে।
তবে এক বছর পর, ল্যাটিনো ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন হ্রাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি ল্যাটিনো ভোটারদের সমর্থন মাত্র ৩৮% এ নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে শীর্ষে পৌঁছানো ৪৯% থেকে উল্লেখযোগ্য পতন। এই পতনের পেছনে মূলত অর্থনৈতিক নীতি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষের ভূমিকা রয়েছে।
পূর্বের জরিপে দেখা গিয়েছিল যে, ট্রাম্পের পক্ষে ভোটদানকারী ল্যাটিনো ভোটারদের ৯৩% অর্থনীতিকে প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে, অপরাধ এবং অভিবাসন বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে। এই অর্থনৈতিক উদ্বেগই ২০২৪ সালের নির্বাচনে ল্যাটিনো ভোটারদের ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকির প্রধান কারণ ছিল।
নতুন জরিপে ৬১% ল্যাটিনো ভোটার ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আর ৬৯% মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় তার পারফরম্যান্সকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। অধিকাংশ ভোটার যুক্তি দেন যে, ট্রাম্পের শাসনামলে মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনের খরচ বাড়ার ফলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।
এই ফলাফলগুলো ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। ল্যাটিনো ভোটারদের সমর্থন হ্রাসের ফলে তার পুনর্নির্বাচন প্রচারাভিযানে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে, অর্থনৈতিক নীতি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে স্পষ্ট পরিকল্পনা না থাকলে ল্যাটিনো ভোটারদের পুনরায় জয় করা কঠিন হতে পারে।
ল্যাটিনো ভোটার গোষ্ঠীর বৈচিত্র্য বিবেচনা করলে, একক নীতি বা বার্তা দিয়ে পুরো গোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করা কঠিন। কিছু সম্প্রদায়ের জন্য কর্মসংস্থান ও বেতন বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা অধিক প্রাধান্য পায়। তাই ট্রাম্পের দলকে এই বৈচিত্র্যকে লক্ষ্য করে নীতি নির্ধারণে আরও সূক্ষ্মতা আনতে হবে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট পার্টি ল্যাটিনো ভোটারদের পুনরায় জয় করার জন্য অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশল গড়ে তুলতে পারে। যদি তারা মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনের খরচের সমস্যায় কার্যকর সমাধান উপস্থাপন করতে পারে, তবে ল্যাটিনো ভোটারদের মধ্যে পুনরায় আস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
সামগ্রিকভাবে, ল্যাটিনো ভোটের পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের বর্তমান সমর্থন হ্রাস এবং ল্যাটিনো ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগের বৃদ্ধি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। উভয় প্রধান দলই এই গোষ্ঠীর চাহিদা ও প্রত্যাশা বুঝে নীতি গঠন করতে পারলে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে।
এই পরিস্থিতিতে, ল্যাটিনো ভোটারদের মনোভাবের পরিবর্তন কেবল ট্রাম্পের জন্য নয়, পুরো আমেরিকান রাজনীতির জন্যই একটি সতর্ক সংকেত। অর্থনৈতিক নীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনের খরচের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে গৃহীত পদক্ষেপই ভবিষ্যতে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে মূল চাবিকাঠি হবে।



