জানুয়ারির তৃতীয় সোমবারকে “ব্লু মানডে” বলা হয়, যা বছরের সবচেয়ে মেঘাচ্ছন্ন দিন হিসেবে পরিচিত। শীতের ঠাণ্ডা ও দীর্ঘদিনের অন্ধকারের কারণে অনেকেই এই সময়ে মনমরা বোধ করেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও অভিজ্ঞতা দেখায় যে, ছোটখাটো আনন্দের কার্যকলাপগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
একটি কার্যকর পদ্ধতি হল স্ট্যান্ড‑আপ কমেডি চেষ্টা করা। ২৪ বছর বয়সী এক তরুণ প্রথম পারফরম্যান্সে পা কাঁপছিলেন, তবে তৃতীয় শোতে দর্শকরা তীব্র হাসিতে ভেসে গিয়েছিল এবং তিনি অন্যদের আনন্দ দিতে পারার সন্তুষ্টি অনুভব করেন। যদিও উদ্বেগ স্বাভাবিক, এই ধরনের সামাজিক চ্যালেঞ্জকে মুখোমুখি হওয়া এক ধরনের এক্সপোজার থেরাপি হিসেবে কাজ করে, এবং ফলাফল না হলেও চেষ্টা করার গর্ব মানসিক শক্তি বাড়ায়।
স্নায়ুবিজ্ঞানী অনুসারে, আনন্দ প্রায়শই অন্যের সান্নিধ্যে উদ্ভূত হয়। হাসি শরীরে এন্ডোরফিন ও ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়ায়, যা স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং মেজাজ উন্নত করে। তাই কমেডি শো দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে মজার কথোপকথন করা বা অনলাইন ভিডিওতে হাস্যকর মুহূর্ত উপভোগ করা একই রকম উপকার দেয়।
আনন্দের তীব্রতা সাধারণ সন্তোষের থেকে ভিন্ন; এটি কখনও কখনও এমনভাবে ভরে যায় যে মুখে ব্যথা পর্যন্ত হাসি আসে। এই অনুভূতি স্বাভাবিকভাবে উদ্ভূত হয়, তাই তা জোর করে আনা উচিত নয়। বরং নতুন কিছুতে আগ্রহী হওয়া, মানুষ ও কার্যকলাপের প্রতি কৌতূহল বজায় রাখা মনের উন্মুক্ততা বাড়ায়।
শীতের মাসে সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (SAD) আক্রান্তদের জন্য এই সময় বিশেষভাবে কঠিন হতে পারে। নিয়মিত প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ, হালকা ব্যায়াম এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া মেজাজ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক। এমনকি ছোট পরিবর্তন, যেমন রঙিন মোজা পরা, মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সালসা নাচ আরেকটি সহজ উপায়। তালের সাথে নড়াচড়া হৃদস্পন্দন বাড়ায়, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়ায়। পার্টনারের সঙ্গে নাচলে শারীরিক সংযোগের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনও মজবুত হয়, যা একাকিত্বের অনুভূতি কমায়।
রঙিন বা আরামদায়ক মোজা পরা শারীরিক আরাম ও দৃষ্টিগোচর রঙের সংমিশ্রণে মস্তিষ্কের আনন্দ কেন্দ্রকে উদ্দীপিত করে। গবেষণায় দেখা যায়, উজ্জ্বল রঙের ভিজ্যুয়াল স্টিমুলাস মেজাজকে উজ্জ্বল করে এবং দৈনন্দিন রুটিনে ছোট আনন্দের মুহূর্ত যোগ করে।
এই তিনটি কার্যকলাপ—হাসি, নাচ এবং রঙিন মোজা—কে দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলে শীতের নিস্তেজতা কমে যায়। প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিটের কমেডি ভিডিও দেখা, সপ্তাহে একবারের জন্য নবীনদের সালসা ক্লাসে অংশ নেওয়া, অথবা সকালে প্রিয় রঙের মোজা পরা যথেষ্ট হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, লক্ষ্যকে বাস্তবসম্মত রাখুন এবং ছোট সাফল্যকে উদযাপন করুন। উদাহরণস্বরূপ, একটি কমেডি শোতে উপস্থিত হওয়া, একটি নতুন নাচের পদ শিখা, অথবা প্রিয় রঙের মোজা দিয়ে দিন শুরু করা। এভাবে ধীরে ধীরে আনন্দের অনুভূতি স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হবে এবং শীতের মাসে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি নিশ্চিত হবে।



