যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্টিক নীতি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে, ওয়াশিংটন ফিনল্যান্ডের দক্ষতা ব্যবহার করে নতুন আইসব্রেকার ক্রয়ের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই নৌকাগুলো কঠিন বরফে ঢাকা সমুদ্রপথে চলাচল করতে সক্ষম, যা উত্তরাঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।
আইসব্রেকার হল এমন জাহাজ যা পুরু বরফ ভেঙে পথ তৈরি করে, ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামরিক নৌবাহিনী নিরাপদে চলাচল করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণে এই নৌকাগুলো অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কিতে অবস্থিত এক বিশেষ পরীক্ষাগারে, আইসব্রেকারের স্কেল মডেল ৭০ মিটার দীর্ঘ ট্যাঙ্কে বরফের পৃষ্ঠে স্লাইড করে পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় নৌকার গতি, শক্তি ও বরফ ভাঙার ক্ষমতা মাপা হয়।
পরীক্ষা পরিচালনাকারী ইঞ্জিনিয়ার রিক্কা মাতালা উল্লেখ করেন, নৌকার কাঠামোগত দৃঢ়তা ও ইঞ্জিনের ক্ষমতা যথেষ্ট না হলে কঠিন বরফে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে, কোম্পানির সিইও মিকা হোভিলাইয়েনেন যোগ করেন, নৌকার হালের নকশা এমন হতে হবে যাতে বরফকে নিচের দিকে বাঁকিয়ে ভাঙা যায়, কাটার মতো নয়।
ফিনল্যান্ড আইসব্রেকার ক্ষেত্রে বিশ্বে অগ্রগণ্য অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে চলমান সব আইসব্রেকারের প্রায় ৮০ শতাংশের নকশা ফিনিশ কোম্পানি তৈরি করেছে, এবং এর মধ্যে ৬০ শতাংশ ফিনল্যান্ডের জাহাজ নির্মাণ কারখানায় তৈরি হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের এই আধিপত্যের পেছনে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে; দেশের সব বন্দর শীতকালে জমে যায়, ফলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়। দেশের মোট পণ্যের ৯৭ শতাংশ সমুদ্রের মাধ্যমে আমদানি হয়, তাই বরফ ভাঙা নৌকা দেশের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।
শীতের সবচেয়ে কঠিন মাসে আইসব্রেকারগুলো বন্দরগুলোকে খোলা রাখে এবং বড় কন্টেইনার জাহাজের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। ফিনল্যান্ডের আর্টিকা কোম্পানি, যার অধীনে আটটি আইসব্রেকার পরিচালিত হয়, এই নৌকাগুলোকে দেশের “দ্বীপ” রূপে বর্ণনা করে।
ইতিমধ্যে অক্টোবর মাসে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের জন্য ফিনল্যান্ড থেকে চারটি আইসব্রেকার অর্ডার করার ঘোষণা দেন। এই নৌকাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্টিক নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অতিরিক্তভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সাতটি “আর্কটিক সিকিউরিটি কাটার” নামে পরিচিত নৌকা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ফিনিশ নকশা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে তৈরি হবে। এই নৌকাগুলোকে ফিনল্যান্ডের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে।
এই সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের আর্টিক অঞ্চলে সামরিক ও বাণিজ্যিক উপস্থিতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি ফিনল্যান্ডের আইসব্রেকার শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রসারিত করবে। উভয় দেশই শীতল সমুদ্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পারস্পরিক প্রযুক্তিগত সমন্বয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে।
নির্মাণ কাজের সূচনা ২০২৪ সালের শেষের দিকে হতে পারে, এবং প্রথম নৌকা ২০২৬ সালের মধ্যে সেবা শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। ফিনল্যান্ডের নকশা দল ও যুক্তরাষ্ট্রের শিপইয়ার্ডের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এই প্রকল্পের সময়সূচি মেনে চলতে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, ফিনল্যান্ডের আইসব্রেকার দক্ষতা ও যুক্তরাষ্ট্রের আর্টিক কৌশলগত লক্ষ্য একত্রে একটি দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি গড়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের সামুদ্রিক নীতি ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সমৃদ্ধ করবে।



