28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতি৬১ লেবার সংসদ সদস্য সামাজিক মিডিয়া বয়সসীমা নিষেধের দাবি করেন

৬১ লেবার সংসদ সদস্য সামাজিক মিডিয়া বয়সসীমা নিষেধের দাবি করেন

৬১ জন লেবার সংসদ সদস্য রবিবার স্যার কীর্স স্টারমারের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠিয়ে অর্ধ-১৬ বছর বয়সের নিচের শিশুরা সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূর্ববর্তী সরকারগুলো তরুণ প্রজন্মকে অনিয়ন্ত্রিত ও আসক্তিকর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে রক্ষা করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, “ক্রমাগত সরকারগুলো তরুণদের সুরক্ষায় যথেষ্ট কাজ করেনি” এবং তারা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর উদাহরণ অনুসরণ করে একই ধরনের আইন প্রণয়নের পক্ষে সাড়া দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া ডিসেম্বর মাসে অর্ধ-১৬ বয়সের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, আর ডেনমার্ক, ফ্রান্স, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও গ্রীসের মতো দেশগুলোও অনুরূপ পদক্ষেপের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

সারকারি নেতৃবৃন্দের মধ্যে এই প্রস্তাব নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। স্যার কীর্স স্টারমার উল্লেখ করেছেন যে, “সমস্ত সম্ভাবনা টেবিলে রয়েছে” এবং তিনি এখনো কোনো নির্দিষ্ট নীতি প্রত্যাখ্যান করেননি। এই অবস্থানটি লেবার পার্টির অভ্যন্তরে চাপ বাড়ানোর একটি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হাউস অব লর্ডসের একটি আসন্ন ভোটে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবিত আইন বিবেচনা করা হবে, যার মাধ্যমে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে চলচ্চিত্রের বয়স রেটিংয়ের মতো সীমা নির্ধারণ করতে হবে। যদি এই প্রস্তাব পাশ হয়, তবে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কন্টেন্টের জন্য বয়স-ভিত্তিক রেটিং সিস্টেম প্রয়োগ করা হতে পারে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের নির্বাচনী এলাকার বহু নাগরিকই সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন যে, শিশুরা উদ্বেগে ভুগছে, সুখের অভাব রয়েছে এবং শিক্ষায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এছাড়া, সামাজিক দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে সাফল্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

এই উদ্বেগের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারগুলোও এই সমস্যাকে স্বীকার করছে। অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও গ্রীসের মতো দেশগুলোও অল্প বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য কঠোর নিয়ম প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয়েছে। লেবার সংসদ সদস্যরা যুক্তি দেন যে, যুক্তরাজ্য যদি এই ধারা অনুসরণ না করে, তবে সে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল সুরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে পারে।

চিঠিটি প্লাইমাউথ মূর ভিউ সংসদ সদস্য ফ্রেড থমাসের উদ্যোগে গৃহীত হয়েছে এবং এতে শিক্ষা কমিটির চেয়ার হেলেন হেইস, প্রাক্তন হুইপ ভিকি ফক্সক্রাফ্ট, প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী ক্যাথরিন ম্যাককিনেল এবং প্রাক্তন শ্যাডো ক্যাবিনেট মন্ত্রী রিচার্ড বারগনসহ বহু কমিটি প্রধান ও প্রাক্তন ফ্রন্টবেঞ্চারদের স্বাক্ষর রয়েছে।

কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনকোও একই বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি বলছেন, যদি তার দল পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ করে, তবে অর্ধ-১৬ বয়সের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের আইন প্রণয়ন করা হবে। এই মন্তব্যটি লেবার পার্টির প্রস্তাবের সঙ্গে সরাসরি বিরোধী অবস্থানকে তুলে ধরে।

এই সময়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, কারণ উভয় প্রধান দলই ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়কে ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরছে। হাউস অব লর্ডসের ভোটের ফলাফল এবং কেমি বেডেনকোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পরবর্তী সপ্তাহে নীতি গঠনের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদি লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাব পার হয়ে যায়, তবে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে বয়স-ভিত্তিক রেটিং সিস্টেমে মানিয়ে নিতে হবে, যা ব্যবহারকারীর প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করতে পারে। অন্যদিকে, যদি লেবার পার্টি সরকারে ফিরে আসে, তবে অর্ধ-১৬ বয়সের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা বাড়বে।

সারসংক্ষেপে, লেবার পার্টির ৬১ জন সংসদ সদস্যের চিঠি যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল নীতি নিয়ে একটি নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। আন্তর্জাতিক উদাহরণ, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং হাউস অব লর্ডসের আসন্ন ভোট একসাথে এই বিষয়ের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments