19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জামায়াতের প্রধান উপদেষ্টার কাছে অভিযোগ

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জামায়াতের প্রধান উপদেষ্টার কাছে অভিযোগ

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ – বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলাম (জামায়াত) তার দলীয় নেতাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে দেশের প্রধান উপদেষ্টার অফিসে আনুষ্ঠানিক পত্র জমা দিয়েছে। পত্রে বলা হয়েছে যে, দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সংবিধানিক বিধান লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কিছু প্রার্থীর মনোনয়নকে বৈধ করে ব্যাংকের তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, এই ধরনের অনিয়ম রাজনৈতিক সমতা নষ্ট করে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করে।

পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বৈত নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথিপত্রের যথাযথ যাচাই না করে অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে, ফলে সংবিধানের ধারা ৩১(১)‑এর অধীনে নাগরিকের একাধিক দেশের নাগরিকত্ব রাখা নিষিদ্ধের বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। জামায়াতের প্রতিনিধিরা বলেন, এই অনিয়মের ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ভোটারদের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনগত কাঠামো ২০১৯ সালে গৃহীত হয়, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নাগরিকদের সীমিত সংখ্যায় দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। তবে, গৃহীত নীতির পর থেকে বেশ কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদন বাতিল, স্থগিত অথবা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মোট ২০টি আবেদন বাতিল, ১টি স্থগিত এবং ২টি বৈধ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে জামায়াতের অভিযোগের প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এখন পর্যন্ত পত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশ করেনি। তবে, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, পত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি সংবিধানিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

জামায়াতের অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে মন্তব্য করছেন। তারা উল্লেখ করেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে যদি কোনো আইনি অমিল প্রমাণিত হয়, তবে তা নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কঠোর করা হতে পারে। অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক চালচলনের অংশ হিসেবে দেখা হতে পারে।

দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র বিতর্কের বিষয় ছিল। কিছু বিশ্লেষক দাবি করেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের ফলে রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অন্যদিকে, কিছু নাগরিক যুক্তি দেন যে, বৈধভাবে দ্বৈত নাগরিকত্ব অর্জনকারী ব্যক্তিরা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণ করা উচিত।

জামায়াতের পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়া হয়েছে এবং ব্যাংকের তহবিল ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়াকে বৈধ করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে, জামায়াতের নেতৃত্ব দাবি করে যে, সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি তদন্ত চালু করা উচিত এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বর্তমান আইনি কাঠামোতে, যদি কোনো প্রার্থী সংবিধানিক শর্ত পূরণ না করে দ্বৈত নাগরিকত্ব পেয়ে থাকে, তবে তার নির্বাচনী যোগ্যতা বাতিল করা যায়। এই নীতির ভিত্তিতে, জামায়াতের অভিযোগের সমাধান হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধার হতে পারে।

অধিকন্তু, জামায়াতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের নির্বাচন কমিশন (সিইসি) ইতিমধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্বের আবেদনপত্রের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশিকায় আবেদনকারীর পটভূমি যাচাই, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং সংবিধানিক শর্তের পূর্ণতা নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে, যদি জামায়াতের অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো আইনি রায় আসে, তবে তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন নিয়মের সূচনা করতে পারে। বিশেষ করে, দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনসভার সংশোধনী প্রস্তাবনা উত্থাপিত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের প্রার্থীর নাগরিকত্বের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে হবে।

সারসংক্ষেপে, জামায়াতের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া অভিযোগ দ্বৈত নাগরিকত্বের সংবিধানিক বৈধতা, আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এখন এই অভিযোগের যথাযথ পর্যালোচনা করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পথে অগ্রসর হবে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments