সেনেগাল ও মরক্কোর মধ্যে আফ্রিকান নেশনস কাপের চূড়ান্ত ম্যাচে পাপে গে’য়ে শেষ মুহূর্তে গোল করে সেনেগালকে শিরোপা এনে দিল। ম্যাচটি ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি কোটা শহরের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই দলই শূন্য-শূন্য সমতায় শেষ সময়ে পৌঁছায়। শেষের অতিরিক্ত সময়ে একাধিক ভিএআর সিদ্ধান্তের ফলে ম্যাচের ধারা নাটকীয়ভাবে বদলে যায়।
সামনাসামনি খেলায় উভয় দলই রক্ষণশীল পদ্ধতি অনুসরণ করে, কোনো বড় সুযোগ না পেয়ে প্রথম ৯০ মিনিটে স্কোর শূন্যে থাকে। তবে অতিরিক্ত সময়ে প্রথম বড় ঘটনা ঘটে যখন সেনেগালের ডিফেন্ডার আবদুলায়ে সেককে মরক্কোর আক্রাফ হাকিমির ওপর হালকা ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে পেনাল্টি দেওয়া হয়। ইস্মাইলা স্যার গোলের জন্য হেডার মারলেও রেফারির সিগন্যাল ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গিয়েছিল।
কয়েক মিনিট পর ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে মরক্কোর ডিফেন্ডার আদাম মাসিনাকে পেনাল্টি দেওয়া হয়, কারণ তিনি কোণার কিক রক্ষা করার সময় ব্রাহিম দিয়াজকে হালকা টেনে নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তের পর সেনেগালের খেলোয়াড়রা রেফারির প্রতি আস্থা হারিয়ে যায় এবং বেশিরভাগই মাঠ ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। সাদিও মানে, যিনি প্রথমে হোঁচট খেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত টানেল দিয়ে ফিরে এসে দলকে ফিরে আসতে উৎসাহিত করেন।
সেনেগালের অভিজ্ঞ কোচ ক্লদে লে রোয় এবং প্রাক্তন খেলোয়াড় এল হাজি দিউফ দুজনেই মাঠের পাশে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যস্থতায় দলটি ড্রেসিং রুমে ফিরে আসে এবং ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পেনাল্টি দেওয়া থেকে গোল করার সময় পর্যন্ত মোট পনেরো মিনিটের বিলম্ব ঘটে। মরক্কোর দিয়াজ, যিনি টুর্নামেন্টে পাঁচটি গোল করে শীর্ষ স্কোরার ছিলেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের প্রার্থীও ছিলেন, পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পায়। তিনি বলকে প্যানেকা শৈলীতে নরম করে গড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন, তবে শটটি সরাসরি সেনেগালের গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডির দিকে যায়, যিনি সহজে তা আটকে দেন।
পেনাল্টি মিসের পর সেনেগালের আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় পাপে গে’য়ে সুযোগ নেয়। তিনি ডান পাশে থেকে ড্রিবল করে, দ্রুত কেন্দ্রীয় এলাকায় প্রবেশ করে, এবং বলটি সোজা গল পোস্টের নিচে মারেন। এই গোলটি ম্যাচের সমাপ্তি চিহ্নিত করে এবং সেনেগালকে শিরোপা এনে দেয়।
ফাইনাল সিগন্যাল শোনার সঙ্গে সঙ্গে উভয় দলের খেলোয়াড়ই মাঠে গিয়ে পড়ে যায়। সেনেগালের খেলোয়াড়রা আনন্দে চিৎকার করে, আর মরক্কোর খেলোয়াড়দের মুখে হতাশা স্পষ্ট। মরক্কোর জন্য এই পরাজয় বিশেষভাবে বেদনাদায়ক, কারণ তারা শেষ আফকন জয় থেকে পাঁচ দশক পর আবার শিরোপা জিততে চেয়েছিল।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় যে পাপে গে’য়ের একক গোলই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে। দিয়াজের প্যানেকা প্রচেষ্টা এবং মেন্ডির সেভ ম্যাচের নাটকীয়তা বাড়িয়ে তুলেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত সেনেগালের জয় নিশ্চিত হয়। এই জয় সেনেগালের ফুটবল ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে তারা প্রথমবারের মতো চূড়ান্তে জয়লাভ করে।
আফ্রিকান নেশনস কাপের পরবর্তী রাউন্ডে, সেনেগালকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। মরক্কো দলটি ভবিষ্যতে শিরোপা জয়ের জন্য পুনর্গঠন ও প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।



