নিউ জার্সির রেড ব্যাংক শহরে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত লাইট অফ ডে উইন্টারফেস্টে ব্রুস স্প্রিংস্টিন অপ্রত্যাশিতভাবে মঞ্চে হাজির হন। ৭৬ বছর বয়সী গায়ক-গীতিকার তার সিগনেচার গান “দ্য প্রমাইজড ল্যান্ড” গাইতে গিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেন।
স্প্রিংস্টিনের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ এবং ফেডারেল সংস্থার অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই আদর্শগুলোকে এমনভাবে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে যা পূর্বে দেখা যায়নি।
তার কথায় তিনি আইসিই-কে বিশেষভাবে লক্ষ্য করে বলেন, মিনিয়াপলিসে সম্প্রতি ঘটিত এক মারাত্মক শুটিংয়ের পর এই সংস্থার কার্যক্রমকে তীব্রভাবে সমালোচনা করা উচিত। তিনি দাবি করেন, আইসিই যেন শহর থেকে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে যায়।
শুটিংটি ঘটেছিল রেনি গুডের ওপর, যিনি তিন সন্তানসহ একজন আমেরিকান নাগরিক ছিলেন। গুডকে আইসিই অফিসার জোনাথন রসের হাতে গুলি করা হয়, যখন তিনি গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনা দেশের বিভিন্ন অংশে প্রতিবাদ ও আলোচনা উস্কে দিয়েছে।
স্প্রিংস্টিনের এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি গানের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ ও স্বাধীনতার স্বপ্নকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইন সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত এবং কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা তার উপরে দাঁড়াতে পারবে না।
লাইট অফ ডে উইন্টারফেস্ট একটি অলাভজনক ইভেন্ট, যা পার্কিনসন রোগ ও অন্যান্য স্নায়ুজনিত রোগের গবেষণার জন্য তহবিল সংগ্রহ করে। এই বছরের অনুষ্ঠানে গুডের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে বিভিন্ন শিল্পী পারফর্ম করেন।
গুগু ডলসের গায়ক জন রেজনিক, ড্রামারামা, উইলি নাইল, জো ডি’উর্সো ও দ্য স্টোন ক্যারাভান, জেমস ম্যাডক ব্যান্ড, উইলিয়ামস অনার, ফ্যান্টাস্টিক ক্যাট এবং লো কাট কনি সহ বহু শিল্পী মঞ্চে উঠে দর্শকদের মনোমুগ্ধ করেন।
প্রতিটি পারফরম্যান্সের শেষে দর্শকরা তীব্র সঙ্গীতের সঙ্গে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সচেতনতা বাড়াতে সক্ষম হন। ইভেন্টের আয় পার্কিনসন রোগে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তা ও গবেষণার জন্য সরাসরি ব্যবহার করা হয়।
স্প্রিংস্টিনের এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি এবং তার তীক্ষ্ণ মন্তব্যের ফলে মিডিয়ার দৃষ্টি দ্রুতই ইভেন্টের দিকে ফিরে আসে। তিনি দীর্ঘদিনের ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচক হিসেবে পরিচিত, এবং এই বার্তাটি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরায় জোরদার করে।
ইভেন্টের আয়োজকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো সমাজের বিভিন্ন স্তরে সংলাপ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শিল্প ও সঙ্গীতের মাধ্যমে জনমত গঠন ও সামাজিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।
ব্রুস স্প্রিংস্টিনের মঞ্চে উক্তি এবং গানের মাধ্যমে তিনি একদিকে সঙ্গীতের শক্তি প্রদর্শন করেন, অন্যদিকে আইসিই-র নীতিমালা ও কার্যক্রমের প্রতি কঠোর সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান স্পষ্ট।
ইভেন্টের পরবর্তী দিনগুলোতে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকার গ্রুপ এই মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে আইসিই-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। লাইট অফ ডে উইন্টারফেস্টের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিলের ব্যবহার এবং স্প্রিংস্টিনের সামাজিক বার্তা দুটোই জনসাধারণের মনোযোগের কেন্দ্রে রয়ে গেছে।



