বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন রোববার রাত প্রায় একটায় ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে তিনি “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে আছেন এবং তার এই অবস্থান পুনরায় প্রমাণ করার কোনো অতিরিক্ত প্রয়োজন নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে জাতীয় সংসদের অধিবেশনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ মোট চব্বিশটি রাজনৈতিক দল “জুলাই সনদ”-এ স্বাক্ষর করেছে। এই স্বাক্ষরকে ভিত্তি করে তিনি সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবিত ধাপগুলোকে সমর্থন জানান।
ইশরাকের পোস্টটি রোববারের প্রথমার্ধে, রাতের একটায় প্রকাশিত হয় এবং এতে তিনি সরাসরি তার ভোটের দিকনির্দেশনা প্রকাশের পাশাপাশি একটি প্রশ্নমালা যুক্ত করেন। প্রশ্নমালাটি মূলত ভোটারদেরকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি জানাতে আহ্বান জানায়।
প্রশ্নমালার প্রথম অংশে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে, নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জুলাই সনদে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে গঠন করা হবে কিনা। এই ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনের সময়কালীন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক মেকানিজমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধারা অনুযায়ী, পরবর্তী জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষীয় করা হবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যার সদস্য সংখ্যা হবে একশো, এবং এই সদস্যদের নির্বাচন পার্টির প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে, যা একক কক্ষের তুলনায় অধিক সমন্বয় ও সমঝোতা নিশ্চিত করবে বলে ধারণা করা হয়েছে।
তৃতীয় ধারা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারকে অন্তর্ভুক্ত করে। এতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত সংস্কার ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। মোট ত্রিশটি প্রস্তাবের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত গৃহীত হয়েছে এবং আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলোকে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।
চতুর্থ ধারা অনুযায়ী, জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কারগুলোও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়িত হবে। এই ধারাটি মূলত সনদে উল্লেখিত বিস্তৃত সংস্কার পরিকল্পনার সম্পূর্ণতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
ইশরাকের পোস্টে উল্লেখিত এই প্রস্তাবগুলো সংবিধান সংস্কারের একটি সমগ্র কাঠামো গঠন করে, যার লক্ষ্য দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে অধিক স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বমূলক এবং গণতান্ত্রিক করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই প্রস্তাবগুলোতে তার ইতিবাচক সমর্থন রয়েছে এবং “হ্যাঁ” ভোটের মাধ্যমে এগুলোকে কার্যকর করা উচিত।
বিএনপি এবং অন্যান্য চব্বিশটি দল ইতিমধ্যে এই সনদে স্বাক্ষর করেছে বলে ইশরাকের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোস্টে কোনো বিরোধী দলের মন্তব্য বা সমালোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, ফলে বর্তমান সময়ে এই সংস্কার পরিকল্পনার ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থন বা বিরোধিতা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না।
ইশরাকের এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটারদেরকে এই প্রস্তাবগুলোর প্রতি তাদের সম্মতি জানাতে আহ্বান জানানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের অনুমোদন প্রয়োজনীয়তা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন, এবং অন্যান্য সংস্কারগুলোকে একসাথে বাস্তবায়ন করা হলে দেশের শাসনব্যবস্থা ও নীতি নির্ধারণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে অনুমান করা যায়। ইশরাকের মতে, এই পরিবর্তনগুলো দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।
প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর মধ্যে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও কমিটি প্রধানের নির্বাচন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এগুলো সংসদীয় কাজের ভারসাম্য ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়তা করবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি সংবিধানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের নতুন মাত্রা যোগ করবে।
মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাবগুলোও সংবিধান সংস্কারের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ধারা দেশের আইনি কাঠামোকে আধুনিকায়ন এবং নাগরিকদের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
ইশরাকের পোস্টে উল্লেখিত প্রশ্নমালা ভোটারদেরকে সরাসরি এই সংস্কারগুলোকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার সুযোগ দেয়, যা ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফলে সরাসরি প্রতিফলিত হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট এবং এই দিক থেকে আর কোনো ব্যাখ্যা প্রয়োজন নেই।
সামগ্রিকভাবে, ইশরাক হোসেনের এই প্রকাশনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে সংবিধান সংস্কারের একটি নতুন দিক উন্মোচন করে। তিনি এবং তার দল, পাশাপাশি অন্যান্য স্বাক্ষরকারী দলগুলো, এই সংস্কারগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য ভোটারদের সমর্থন আহ্বান করছেন। আগামী নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে এই সংস্কার পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করবে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।



