রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নির্বাচন কমিশন ভবনে পরিকল্পিত প্রতিবাদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায়। দলটি কমিশনারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়।
সভায় রাকিব উল্লেখ করেন, কমিশন তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক বলে স্বীকার করেছে এবং পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে দলটি আজকের কর্মসূচি বাতিল করে, তবে আগামীকাল বেলা একটায় নতুন ঘেরাও চালু রাখবে। তিনি যোগ করেন, কমিশনের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
দলটি জানায়, আগামীকাল সকাল ১১টায় আবার নির্বাচন কমিশনের সামনে সমাবেশ হবে এবং দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে। এই ঘেরাও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে দলটি নিশ্চিত করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেছে।
রোববার সকাল সাড়ে দশটায় নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে ছাত্রদলের বিশাল সংখ্যক নেতাকর্মী একত্রিত হয়। উপস্থিতির সংখ্যা কয়েকশো থেকে এক হাজারের বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং সমাবেশের সময় তিনটি মূল অভিযোগ উত্থাপিত হয়।
প্রথম অভিযোগ হল পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ছাত্রদল দাবি করে, পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট নীতি না থাকায় ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দ্বিতীয় অভিযোগে দলটি দাবি করে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের ফলে কমিশন স্বতন্ত্র ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই চাপের ফলে কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
তৃতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে কমিশন একটি অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ছাত্রদল দাবি করে, এই প্রজ্ঞাপন বিশেষ রাজনৈতিক দলের সরাসরি হস্তক্ষেপের ফল এবং তা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে ক্ষুণ্ণ করছে।
কমিশনাররা রাবিবারের আলোচনায় ছাত্রদলের উদ্বেগ শোনার পর, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক বলে স্বীকার করে এবং পূরণের আশ্বাস প্রদান করে। কমিশন উল্লেখ করেছে, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এছাড়া, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে ন্যায়সঙ্গত সমাধান খুঁজবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, ছাত্রদলের প্রতিবাদ স্থগিত ও পুনরায় চালু করা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিয়ে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত, যদি কমিশন দাবিগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী সপ্তাহে বৃহত্তর সমাবেশের সম্ভাবনা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোও এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছে; কিছু দল কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে কিছু দল ছাত্রদলের দাবিকে রাজনৈতিক স্বার্থের অংশ হিসেবে দেখেছে। সিভিল সোসাইটি সংগঠনগুলোও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সকল স্টেকহোল্ডারকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে নির্বাচনী সময়সূচি বজায় রাখতে সব স্টেকহোল্ডারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্রতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে।
প্রতিবাদ পুনরায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ গার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অশান্তি রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
অবশেষে, ছাত্রদল ও কমিশনের মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফল দেশের নির্বাচনী সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উভয় পক্ষের সমঝোতা যদি সফল হয়, তবে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনবিশ্বাস পুনর্গঠন সম্ভব হবে; অন্যথায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।



