ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি) জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে (জুলাই‑জুন) বিশ্বব্যাপী শস্যের সমাপনী মজুত ৯ বছরের শীর্ষে পৌঁছাতে পারে। এই পূর্বাভাসে শস্য উৎপাদন এবং মজুতের উভয়ই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত।
আইজিসি প্রকাশিত “গ্রেইন মার্কেট রিপোর্ট” অনুযায়ী, গমসহ অন্যান্য দানাদার শস্যের মোট উৎপাদন ২৪৬.১ কোটি টন (২৪৬ কোটি ১০ লাখ টন) হতে পারে, যা নভেম্বরের পূর্বাভাসের তুলনায় ৩.১ কোটি টন বেশি।
মজুতের হিসাবেও সমন্বয় করা হয়েছে; সমাপনী মজুতের পূর্বাভাস ১.৫ কোটি টন বাড়িয়ে ৬৩.৪ কোটি টন নির্ধারিত হয়েছে। এই সংখ্যা পূর্বের অনুমানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং ২০১৭-১৮ মৌসুমের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার নির্দেশ করে।
আইজিসির বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ২০২৫-২৬ বর্ষে শস্য উৎপাদন বার্ষিক ভিত্তিতে প্রায় ৬% বৃদ্ধি পেতে পারে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাব্য বৃদ্ধি উল্লেখ করা হয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, কানাডা ও আর্জেন্টিনায় গম উৎপাদনের সম্ভাব্য বৃদ্ধি, এবং কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় যব উৎপাদনের ইঙ্গিতও মজুত বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। এই অঞ্চলগুলোতে উৎপাদন বাড়লে বৈশ্বিক শস্য সরবরাহের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
বৃহত্তর মজুতের ফলে শস্যের আন্তর্জাতিক দাম হ্রাসের সম্ভাবনা দেখা দেয়। সরবরাহের অতিরিক্ততা বাজারে মূল্যচাপ কমিয়ে দিতে পারে, যা রপ্তানিকারক দেশগুলোর রেভিনিউতে প্রভাব ফেলবে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্রেডাররা উচ্চ মজুতের পরিবেশে পজিশন পরিবর্তন করতে পারেন; ফিউচার চুক্তি ও স্পট মার্কেটের দাম সমন্বয় হতে পারে। স্টোরেজ খরচ ও লজিস্টিক পরিকল্পনাও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হতে পারে।
কৃষকরা উৎপাদন বাড়ানোর সংকেত পেতে পারেন, তবে অতিরিক্ত সরবরাহের ঝুঁকি রয়েছে। যদি মজুত প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তবে ফার্মগেট মূল্যে পতন ঘটতে পারে, যা কৃষকদের আয়কে প্রভাবিত করবে।
প্রধান ঝুঁকি হিসেবে অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং নীতি পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য। এসব উপাদান উৎপাদন পরিকল্পনা ও মজুতের প্রকৃত পরিমাণকে পরিবর্তন করতে পারে।
যদি আইজিসির পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০২৫-২৬ শস্য বাজারে সরবরাহের প্রাচুর্য দেখা যাবে, যা দামের স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যিক প্রবাহে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে। তবে, সরবরাহের অতিরিক্ততা ও চাহিদার পরিবর্তন মূল্য অস্থিরতা বজায় রাখতে পারে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কানাডা, আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রেলিয়ার উৎপাদন বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিশ্ব শস্য মজুতকে প্রায় দশ বছরের সর্বোচ্চে নিয়ে যাবে। এই প্রবণতা শস্যের দাম, রপ্তানি-আমদানি ভারসাম্য এবং কৃষক-বাজারের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



