বিগত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো হোয়াইট হাউসে একান্ত বৈঠকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দেন। এই ঘটনায় পুরস্কারের হস্তান্তরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং নোবেল কমিটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার এবং তার বিজয়ীকে আলাদা করা কঠিন, কারণ পুরস্কারটি বিজয়ীর অনন্য কাজের স্বীকৃতি এবং তার পরিচয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। প্রতিটি বিজয়ীকে স্বর্ণের মেডেল, একটি ডিপ্লোমা এবং নগদ পুরস্কার প্রদান করা হয়, যা পুরস্কারের মূল উপাদান হিসেবে গণ্য হয়।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়ার পর, হোয়াইট হাউসে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে এই কাজের বৈধতা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। কেউ প্রশ্ন তুলেছিল, নোবেল পদক কি অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় কিনা।
নোবেল কমিটি তৎক্ষণাৎ স্পষ্ট করে জানায় যে, একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষিত হলে তা বাতিল, ভাগ বা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই নীতি চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয় বলে তারা জোর দেয়।
কমিটি আরও উল্লেখ করে যে, যদিও পদকের শারীরিক মালিকানা পরিবর্তন হতে পারে, তবে শিরোনাম ও স্বীকৃতি সর্বদা মূল বিজয়ীরই থাকে। অর্থাৎ, পদক অন্যের হাতে গেলেও নোবেল শান্তি পুরস্কারের শিরোনাম মাচাদোরই রয়ে যায়।
নোবেল শান্তি সেন্টারও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, বলেছে যে পদকের মালিকানা বদলাতে পারে, তবে বিজয়ীর খেতাব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এই ব্যাখ্যা নোবেল পুরস্কারের মৌলিক নীতিকে পুনরায় নিশ্চিত করে।
কমিটি জোর দিয়ে বলে যে, পুরস্কার প্রদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বিজয়ীর অবদানের ভিত্তিতে হয় এবং এটি ব্যক্তির কাজের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। পুরস্কার পাওয়ার পর বিজয়ী কীভাবে পদক বা অর্থ ব্যবহার করবেন, এ বিষয়ে কোনো কঠোর নিয়ম নেই।
বিজয়ী পদকটি নিজের কাছে রাখতে, দান করতে বা বিক্রি করতে পারেন, তবে নোবেল ফাউন্ডেশনের নীতি অনুযায়ী তারা এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর কোনো মন্তব্য করে না। তাই মাচাদোর পদক উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কমিটি কোনোভাবে সমালোচনা করেনি।
নোবেল পদক দান বা বিক্রয়ের উদাহরণ পূর্বে বহুবার দেখা গেছে। ১৯২০ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী তার পদক বিক্রি করেন, এবং পরবর্তীতে অন্যান্য বিজয়ীরাও একই রকম কাজ করেছেন। এই ঘটনা দেখায় যে পদকের শারীরিক মালিকানা পরিবর্তন স্বাভাবিক, তবে শিরোনাম অপরিবর্তনীয়।
মাচাদোর পদক উপহার দেওয়ার পর নোবেল কমিটি পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, তারা কোনো বিজয়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা কাজ নিয়ে মন্তব্য করবে না। এই নীতি নোবেল পুরস্কারের স্বতন্ত্রতা এবং স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে।
এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবেশে নোবেল শান্তি পুরস্কারের গুরুত্ব এবং তার স্বীকৃতির সীমা নিয়ে নতুন আলোচনা উত্থাপিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন উপহার বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নোবেল কমিটির অবস্থান স্পষ্টভাবে অনুসরণ করা হবে বলে আশা করা যায়।



