ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামে রবিবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ২৯৬ রানে সীমা পার করে ভারতকে ৪১ রান পার্থক্যে পরাজিত করে। সিরিজটি ২-১ স্কোরে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করে, যা দেশের প্রথম ভারতীয় মাটিতে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জয়।
সিরিজের পূর্বে নিউজিল্যান্ড ভারতীয় মাটিতে সাতটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে হারের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৪ সালে টেস্ট সিরিজে প্রথম জয় অর্জনের পর, এবার ওয়ানডে ফরম্যাটে একই স্বাদ পেয়ে তারা ইতিহাস রচনা করে।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ড্যারিল মিচেল এবং গ্লেন ফিলিপসের দুজনেরই সেঞ্চুরি ছিল। মিচেল ১৩৭ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ৩টি চতুর্থ এবং ১৫টি ছয়টি ছিল। ফিলিপস ১০৬ রান তৈরি করেন, যার মধ্যে ৩টি চতুর্থ এবং ৯টি ছয়টি অন্তর্ভুক্ত। দুজনের সম্মিলিত ৩৩৭ রানের অংশীদারিত্ব নিউজিল্যান্ডকে শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করে।
মিচেলের ১৩১ রান অচল থাকা প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের পর, তিনি আবার সেঞ্চুরি করে সিরিজে মোট ৩৫২ রান যোগ করেন, যা তিন ম্যাচের সিরিজে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের সর্বোচ্চ স্কোর। এই পারফরম্যান্সের জন্য তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ফিলিপসের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি তাকে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতকে নিয়ে যায় এবং তার মোট ১০৬ রান নিউজিল্যান্ডের জয়ের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। দুজনের সেঞ্চুরি একত্রে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো জোড়া সেঞ্চুরি গঠন করে, যা মোট ১৫তম এমন পার্টনারশিপ।
ইন্ডিয়ান টস হারে, প্রথম ওভারেই দুইজন ওপেনারই আউট হয়ে যায়। হেনরি নিকোলসের চতুর্থ ডেলিভারিতে ডেভন কনওয়ে স্লিপে ধরা পড়ে, যা ভারতের শুরুর পরিকল্পনাকে নষ্ট করে দেয়। এরপর উইল ইয়াং এবং মিচেলও দ্রুত আউট হয়ে যায়, ফলে ভারতীয় ব্যাটিংয়ে প্রাথমিক চাপ বাড়ে।
ভারতের শীর্ষ ব্যাটসম্যান ভিরাট কোহলি ১২৪ বলের মধ্যে ১০৮ রান করেন, যার মধ্যে ৩টি চতুর্থ এবং ১০টি ছয়টি অন্তর্ভুক্ত। কোহলির আউট হওয়ার সময় ভারতকে ৪৬ রান দরকার ছিল, কিন্তু ২৭ বল বাকি থাকায় স্বপ্ন ভেঙে যায়। কোহলির ব্যাটিংই ভারতের মোট ২৫৫ রান অর্জনের একমাত্র বড় অবদান।
কোহলির পাশে নিতেশ কুমার রেড্ডি এবং হারশিত রানা ৫০ রান যোগ করে মাঝারি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, তবে দ্রুত গৃহীত উইকেটের ফলে তাদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট না থাকে। শেষের দিকে ভারতের স্কোর ২৯১-৯ে থেমে যায়, যখন লক্ষ্য ছিল ২৯৬।
নিউজিল্যান্ডের বোলিং দিকেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত দেখা যায়। হেনরি নিকোলসের দ্রুত বোলিং এবং ডেভন কনওয়ের স্লিপে ধরা পড়া ভারতের শুরুর ব্যাটিংকে দুর্বল করে। বাকি বোলারদেরও গুরুত্বপূর্ণ উইকেটের মাধ্যমে ভারতকে দমিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের শেষ পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে উইকেট নেয়, ফলে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের শেষের কিছুটা সুযোগই বাঁচে না। শেষ পর্যন্ত ভারত ২৫৫ রানে থেমে থাকে, আর নিউজিল্যান্ডের ২৯৬ রানের লক্ষ্য সহজে অর্জিত হয়।
সিরিজের সমাপ্তি দিয়ে নিউজিল্যান্ডের ভারতীয় মাটিতে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়। মিচেলকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দেওয়া হয়, আর ফিলিপসের দ্বিতীয় শতক তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।
এই জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা যায়, আর ভারতের জন্য এই পরাজয় ভবিষ্যৎ সিরিজে কৌশলগত পরিবর্তনের সংকেত হতে পারে।



