ভিলা পার্কে অনুষ্ঠিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এভারটন ১-০ গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে পরাজিত করে, ফলে ভিলার শিরোপা তাড়া তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উভয় দলই শীর্ষস্থানীয় ক্লাবের কাছ থেকে পয়েন্ট হারানোর পর সুযোগের সন্ধানে ছিল, আর ভিলার জয় তাদের দ্বিতীয় স্থান ফিরে পেতে এবং শীর্ষ দলের চার পয়েন্টের ফাঁক কমাতে সহায়তা করত।
অ্যাস্টন ভিলার প্রধান কোচ উনাই এমেরি ম্যাচের আগে ক্যাপস লকে “THIS MATCH IS CRUCIAL” লিখে তার দলের মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি আরসেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট হারানোর পর ভিলার জন্য সোনার সুযোগ হিসেবে এই ম্যাচকে দেখেছিলেন।
খেলাটির সূচনা মাত্র ১১ সেকেন্ডের মধ্যে মেরলিন রোহল পোস্টে আঘাত হানার সঙ্গে হয়, যা ভিলার জন্য প্রথম সংকেত হয়ে ওঠে। এরপর ১৮ মিনিটে ক্যাপ্টেন জন ম্যাকগিন ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন, যা দলের গঠনকে আরও অস্থির করে দেয়।
এভারটনের জেক ও’ব্রায়েনের প্রথমার্ধের হেডার অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, কারণ হ্যারিসন আর্মস্ট্রংকে খেলায় হস্তক্ষেপকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর এভারটনের আক্রমণ পুনরায় গতি পায়।
দ্বিতীয়ার্ধে থিয়ের্নো ব্যারি সুযোগ পেয়ে গোল করেন। এভারটনের গার্ডে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ভুল এবং পাউ টোরেসের সামান্য ল্যাপসের পরে ব্যারির শট গন্তব্যে পৌঁছায়, যা ভিলার জন্য পরাজয়ের চূড়ান্ত চিহ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
এই ফলাফলে ভিলার শিরোপা তাড়া তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; তারা দ্বিতীয় স্থান ফিরে পেতে এবং শীর্ষ দলের চার পয়েন্টের ফাঁক কমাতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন সেই সুযোগ হারিয়ে গেছে। এদিকে এভারটন লিগ টেবিলে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।
ভিলার গৃহম্যাচে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি পরাজয় হয়েছে, যা গত মৌসুমের শুরুর পর থেকে বিরল। এই পরাজয়টি তাদের গৃহভিত্তিক শক্তি হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
ডেভিড ময়েস, এভারটনের প্রধান কোচ, তার দলের দৃঢ়তা ও পুনরুদ্ধারকে প্রশংসা করেন, বিশেষ করে জেক ও’ব্রায়েনের হেডার বাতিলের পরেও দলটি কীভাবে চাপ সামলেছে তা উল্লেখ করেন।
মিডফিল্ডে জেমস গার্নার উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন; তার সৃষ্টিশীলতা ও বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ম্যাচের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে গার্নার ইজ্রি কনসা, ওলি ওয়াটকিন্স এবং মরগান রজার্সের তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলেছেন।
প্রাক্তন ভিলা তারকা জ্যাক গ্রিলিশও ভিলা পার্কে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কলার উঁচু করে তৃতীয়বার মাঠে নামেন এবং শেষ সময়ে ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য হোল্ট এন্ডের দিকে ঘুরে হাঁটেন, ত্রিনিটি রোড স্ট্যান্ডে চুমু ছুঁড়ে দেন এবং টানেল প্রবেশদ্বারে স্বাক্ষর দেন।
ময়েস গ্রিলিশের ফিরে আসা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “তার জন্য আজকের পরিস্থিতি কঠিন ছিল” এবং পূর্বে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ভিলায় তার উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
ভিলার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা ছিল ক্যাপ্টেন জন ম্যাকগিনের প্রারম্ভিক ইনজুরি এবং বৌবাকার কামারার দীর্ঘমেয়াদী হাঁটু আঘাতের কারণে অনুপস্থিতি, যা দলের রক্ষণাবেক্ষণ ও আক্রমণ উভয়ই প্রভাবিত করেছে। এই শারীরিক সমস্যাগুলি ভিলার পরবর্তী ম্যাচে চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে।



