27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদ্বৈত নাগরিকত্বের আপিল শেষ, নির্বাচনে ২২ প্রার্থী অনুমোদিত

দ্বৈত নাগরিকত্বের আপিল শেষ, নির্বাচনে ২২ প্রার্থী অনুমোদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে শুনানি শেষ হয়ে, মোট ২২ জন প্রার্থীকে ভোটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়টি দল থেকে ২০ জন এবং দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন; আর এক প্রার্থীর আপিল এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, যার প্রার্থিতা এখন একক নথির ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি সংসদ সদস্যের পদে অযোগ্য। সংবিধানের ধারা ৬৬(২)(গ) এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, যা ২০০৯ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধনী) আইন ও ২০১১ সালের সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধনী) আইনের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে বা সেই দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, তবে তিনি সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। এই নিয়ম ১৯ আগস্ট ২০০৮ থেকে কার্যকর।

প্রার্থীরা দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ জমা দিয়ে এই বিধানের ব্যাখ্যা ব্যবহার করছেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি উপস্থাপন করে, তারা নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণ করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে। এভাবে, আইনগত শূন্যস্থানকে ব্যবহার করে প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতার সুযোগ সুনিশ্চিত করেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি থেকে মোট নয়জন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের আপিলের পর তালিকাভুক্ত হয়েছে। এদের নাম ও নির্বাচনী এলাকা হল: এ কে এম কামরুজ্জামান (দিনাজপুর‑৫), শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর‑১), মো. মনিরুজ্জামান (সাতক্ষীরা‑৪), তাহির রায়হান চৌধুরী (সুনামগঞ্জ‑২), মো. শওকতুল ইসলাম (মৌলভীবাজার‑২), মুশফিকুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑৪), আবদুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী‑৩), আফরোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ‑৩) এবং মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী (শেরপুর‑২)।

কুমিল্লা‑৩ আসনের কায়েকোবাদ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন আপিল এখনো স্থগিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের মতে, উপস্থাপিত নথি যদিও নাগরিকত্ব ত্যাগের ইঙ্গিত দেয়, তবে তা প্রক্রিয়াগতভাবে যথাযথ নয়। তাই তুরস্কের দূতাবাস থেকে স্বীকৃত নথি সরবরাহ করা হলে তার আপিল প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব হবে।

শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার ফলে, বিএনপি’র বৈধ প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়া (কুমিল্লা‑১০) তার প্রার্থিতা হারিয়েছেন। উপস্থিতি না থাকায় তার আপিল প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, ফলে তিনি আর ভোটের তালিকায় নেই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও দ্বৈত নাগরিকত্বের আপিলের পর পাঁচজন প্রার্থীকে অনুমোদন করেছে। এদের মধ্যে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (ঢাকা‑১) ও জোনায়েদ হোসাইন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) অন্তর্ভুক্ত; বাকি চারজনের নাম প্রকাশ না থাকলেও তারা একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নথিপত্র জমা দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছে। মোট ২২ জনের মধ্যে ২০ জন ছয়টি দল থেকে এবং দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যা নির্বাচনী লড়াইকে আরও বহুমুখী করে তুলবে।

দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি এখন নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে। প্রার্থীরা কীভাবে নথি উপস্থাপন করে, তা নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল, এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের আপিলের সংখ্যা বাড়তে পারে।

পরবর্তী ধাপে, নির্বাচন কমিশন বাকি এক প্রার্থীর আপিলের সিদ্ধান্ত নেবে এবং সকল প্রার্থীর নথি চূড়ান্তভাবে যাচাই করবে। আপিলের ফলাফল নির্বাচনী তালিকাকে চূড়ান্ত রূপ দেবে, এবং ভোটের দিন পর্যন্ত প্রার্থীদের ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments