মাইক্রোসফট জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত উইন্ডোজ সিকিউরিটি আপডেটের ফলে কিছু উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারকারী শাটডাউন বা হাইবারনেট করার সময় সিস্টেম রিস্টার্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। এই ত্রুটি দূর করতে কোম্পানি আজই একটি জরুরি ‘আউট‑অফ‑ব্যান্ড’ আপডেট প্রকাশ করেছে, যা প্রভাবিত ডিভাইসগুলোতে স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হওয়া নিশ্চিত করে।
নতুন প্যাচটি শুধুমাত্র শাটডাউন সমস্যাই নয়, উইন্ডোজ ১০ ও ১১-এ রিমোট কানেকশন অ্যাপ ব্যবহার করে লগইন করার সময় দেখা ক্রেডেনশিয়াল প্রম্পট ব্যর্থতা সমস্যাকেও ঠিক করে। আপডেটের পরে রিমোট ডেস্কটপ, টিমস বা অন্যান্য রিমোট টুলের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা ব্যবহারকারীরা আর লগইন ত্রুটি সম্মুখীন হবেন না। এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বাগ একসাথে সমাধান হওয়ায় আইটি পরিবেশে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।
শাটডাউন সমস্যাটি বিশেষভাবে ‘সিকিউর লঞ্চ’ ফিচার সক্রিয় থাকা উইন্ডোজ ১১ ডিভাইসে দেখা গিয়েছিল। সিকিউর লঞ্চ হল ফার্মওয়্যার স্তরে আক্রমণ থেকে সিস্টেমকে রক্ষা করার জন্য মাইক্রোসফটের একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই ফিচার সক্রিয় থাকলে আপডেটের কিছু কোডের সঙ্গে সামঞ্জস্যের ত্রুটি ঘটায়, ফলে শাটডাউন বা হাইবারনেট কমান্ড রিস্টার্টে রূপান্তরিত হয়ে যায়।
রিমোট লগইন সমস্যার মূল কারণ ছিল ক্রেডেনশিয়াল প্রম্পটের ব্যর্থতা, যা ব্যবহারকারীকে সঠিকভাবে অথেনটিকেশন তথ্য প্রদান করতে বাধা দিত। মাইক্রোসফটের জানানো অনুযায়ী, এই ত্রুটি আপডেটের কিছু নিরাপত্তা সেটিংসের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে ঘটেছিল। প্যাচে সংশ্লিষ্ট সেটিংস পুনরায় কনফিগার করা হয়েছে, ফলে রিমোট সেশন শুরু করার সময় আর কোনো প্রম্পট ত্রুটি দেখা দেবে না।
যদিও শাটডাউন ও রিমোট লগইনের সমস্যার সমাধান হয়েছে, তবে জানুয়ারি আপডেটের কিছু অবশিষ্ট বাগ এখনও ব্যবহারকারীদের প্রভাবিত করছে। কিছু ডিভাইসে স্ক্রিন সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যাওয়া, আর অন্যদের ক্ষেত্রে আউটলুক ক্লাসিক অ্যাপ ক্র্যাশের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সমস্যাগুলো মাইক্রোসফটের ভবিষ্যৎ আপডেটে সমাধান করার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে ব্যবহারকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করে গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে ডেটা ব্যাকআপ রাখা advisable।
অক্টোবর ২০২৫-এও মাইক্রোসফট একই ধরনের জরুরি প্যাচ প্রকাশ করেছিল, যা উইন্ডোজ রিকভারি এনভায়রনমেন্ট (WRE) সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান করেছিল। সেই সময়ে রিকভারি মোডে প্রবেশের সময় সিস্টেম হ্যাং বা ক্র্যাশের অভিযোগ ছিল, যা নতুন প্যাচের মাধ্যমে ঠিক করা হয়েছিল। এই ধারাবাহিক আপডেটগুলো মাইক্রোসফটের নিরাপত্তা আপডেটের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ইঙ্গিত দেয়।
উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীদের জন্য মাইক্রোসফট এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেট (ESU) প্রোগ্রাম চালু রেখেছে, যাতে তারা উইন্ডোজ ১১-এ আপগ্রেড না করলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা সমর্থন পেতে পারে। ESU প্রোগ্রামটি ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত চলবে এবং ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে নিরাপত্তা প্যাচের সুবিধা নিতে পারবেন। এই ব্যবস্থা বিশেষ করে কর্পোরেট পরিবেশে যেখানে লিগেসি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার পরিবর্তন ধীরগতিতে হয়, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, মাইক্রোসফটের জরুরি প্যাচ শাটডাউন ও রিমোট লগইন সংক্রান্ত দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি সমাধান করেছে, তবে কিছু অবশিষ্ট বাগের জন্য ব্যবহারকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। নিরাপত্তা আপডেটের পরপরই ত্রুটি প্রকাশ পেলে দ্রুত প্যাচ রিলিজ করা আইটি নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক দিক, তবে আপডেটের পরপরই সিস্টেমের স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করা ব্যবহারকারীর দায়িত্ব। ভবিষ্যতে এই ধরনের সমস্যার প্রভাব কমাতে মাইক্রোসফটের টেস্টিং প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং ব্যবহারকারীদের আপডেটের আগে ব্যাকআপ নীতি মেনে চলা উভয়েরই গুরুত্ব রয়েছে।



