জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইলেকশন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে কঠোর সমালোচনা করে, দাবি করেছে যে ইসি প্রায় সব দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া জানান, তিনি গতকাল দুপুর থেকে ইসিতে আপিল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ইসির আচরণে অনিয়ম লক্ষ্য করেছেন।
ভুঁইয়া উল্লেখ করেন, শুনানির সময় আইনি যুক্তির বাইরে চাপ ও আবেগের ভিত্তিতে রায় প্রদান করা হয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ণ করে।
তিনি বলেন, শেষ দিনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইসির সামনে দুই-তিন হাজার ছাত্রদলের নেতা-কর্মী সমবেত হয়ে একটি বিশাল মব গঠন করে রেখেছিল, যা সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
একটি পর্যায় শেষ হওয়ার পর এবং রায়ের আগমুহূর্তে দেড় ঘণ্টা ধরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত হিসেবে তিনি বর্ণনা করেন। এই সময়ে ইসি বিএনপির মহাসচিবসহ পাঁচজন প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করে, এরপর রায় প্রদান করে।
বিএনপি পক্ষের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজলও সেই প্রতিনিধিদলে ছিলেন, যা রায়ের একপক্ষীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে বলে ভুঁইয়া মন্তব্য করেন।
এনসিপি দাবি করে, ইসি বহু বিতর্কিত প্রার্থীর সংবিধান, আরপিও এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন লঙ্ঘনের পরেও তাদেরকে বৈধতা প্রদান করেছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতিকে ক্ষুণ্ণ করে।
আসিফ মাহমুদ বলেন, “যদি এই রকম পদ্ধতিতে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হয়, তবে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি যে ইসি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে না।” তিনি ইসির ওপর আর কোনো আত্মবিশ্বাস না থাকার কথা উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
ভুঁইয়া আরও যোগ করেন, “আজ স্পষ্টভাবে বলছি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইসির ওপর আমাদের দল আর কোনো আস্থা পায়নি।” তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতিতে এনসিপি কীভাবে এবং কখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে, তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে।
এনসিপি এখন পর্যন্ত ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে সমর্থন আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা ইসির এই পদক্ষেপকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, কারণ দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপির অংশগ্রহণের অনুমোদন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
পরবর্তী সপ্তাহে এনসিপি কি আইনি পথে পদক্ষেপ নেবে, নাকি রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুন মোড় দিতে পারে।



