বিবিসি সম্প্রচারিত ব্যবসা-প্রতিযোগিতামূলক শো ‘দ্য আপরেন্টিস’ এর নতুন সিজনে অংশ নিতে যেতেন লেভি হজেটস-হেগের নামে এক প্রার্থী, যার পুরনো সামাজিক মিডিয়া পোস্টে মুসলিমদের প্রতি বর্ণবাদী মন্তব্য এবং নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ভাষা প্রকাশ পেয়েছে। এই পোস্টগুলো প্রথম প্রকাশ পায় একটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রে, যা শোয়ের উৎপাদন সংস্থা নেকেডকে সতর্ক করে।
নেকেড, যা শোটির উৎপাদন ও পরিচালনা করে, জানায় যে সামাজিক মিডিয়া স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় এই আপত্তিকর পোস্টগুলো শনাক্ত করা যায়নি এবং এখন পুরো প্রক্রিয়াটি পুনর্বিবেচনা করা হবে। সংস্থার মতে, পূর্বে করা যাচাইগুলো এই ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে।
প্রার্থীর পোস্টগুলোতে ইসলাম ধর্মের প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য এবং নারীদের অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও ২০১৩ সালের কিছু পোস্টে তিনি ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করলেও তা প্রকাশ পায়। পোস্টগুলো পরবর্তীতে প্রার্থীর নিজস্ব উদ্যোগে মুছে ফেলা হয়।
বিবিসি একটি মুখপত্রে জানায় যে এই ধরনের মতামত সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং সংস্থা বিষয়টি অত্যন্ত গম্ভীরভাবে নিচ্ছে। তারা উল্লেখ করে, শোয়ের উৎপাদন সংস্থাকে সামাজিক মিডিয়া যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া পুনরায় মূল্যায়ন করতে অনুরোধ করা হয়েছে, কারণ এই ঘটনায় তা স্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রার্থী হজেটস-হেগ তার অতীতের পোস্টগুলো নিয়ে গভীর লজ্জা ও অনুশোচনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি দশকের বেশি আগে করা মন্তব্যের জন্য লজ্জিত এবং দুঃখিত। আমি সকলকে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই, বিশেষত যাঁরা এই ভাষা থেকে আঘাত পেয়েছেন এবং আমার সহপ্রার্থীদেরও।” তিনি পোস্টগুলো মুছে ফেলার পাশাপাশি তার দায়িত্ব স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
‘দ্য আপরেন্টিস’ শোটি লর্ড সুগার উপস্থাপিত এবং ২০ জানুয়ারি নতুন সিজনের উদ্বোধন করবে, যেখানে ২০ জন প্রতিযোগী £২৫০,০০০ পুরস্কার জেতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের সুযোগ পাবে। শুটিং ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে, ফলে হজেটস-হেগ এখনও শোতে উপস্থিত থাকবে।
বিবিসি এই বিষয়টি নিয়ে জানিয়েছে যে প্রার্থীর সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার পর পোস্টগুলো আর দেখা যায় না, তবে সংস্থার দায়িত্ব হল ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।
শোয়ের উৎপাদন সংস্থা নেকেডের মুখপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা এখন থেকে সামাজিক মিডিয়া স্ক্রিনিংয়ের মানদণ্ডকে আরও কঠোর করবে এবং প্রার্থীদের অনলাইন আচরণকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে। এই পরিবর্তনটি শোয়ের সুনাম রক্ষার পাশাপাশি দর্শকদের আস্থা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে।
বিবিসি এবং নেকেড উভয়ই একমত যে, শোয়ের অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত মতামত ও আচরণ শোয়ের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষুণ্ন করতে পারে না, তাই ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনার পর, শোয়ের ভক্ত ও মিডিয়া বিশ্লেষকরা সামাজিক মিডিয়া স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং প্রার্থীদের পটভূমি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কীভাবে উন্নত করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছেন।
বিবিসি এবং নেকেডের এই পদক্ষেপগুলো শোয়ের স্বচ্ছতা ও নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর নীতি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



