ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুইটি ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের চাঁনপুর বাজারে অনুষ্ঠিত এক ছোট সভায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার ভোটের পরিবেশে পক্ষপাতিত্ব দেখায়, তবে ৫ আগস্টের মতো অশান্তি যে কোনো আসনে পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
ফারহানা জানান, দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ ১৭ বছর পর এই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং তার আসনের পাঁচ লাখেরও বেশি ভোটার নিরাপদে ভোটদান করবেন বলে তিনি আশা করেন। তিনি প্রত্যাশা করেন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন সকল প্রার্থী ও ভোটারকে সমানভাবে সুরক্ষিত রাখবে, যাতে কোনো দল বা প্রার্থীর কর্মী অন্য প্রার্থীর ওপর ভয় দেখাতে না পারে।
প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংস্থার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে, তিনি পুনরায় ৫ আগস্টের ঘটনা স্মরণে রাখার আহ্বান জানান। ১৯৭১ের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ৫ আগস্টের ঘটনাটি দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক অশান্তি ও সহিংসতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং ফারহানা বলেন, একই রকম পরিস্থিতি আবার দেখা দিলে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
তিনি প্রশাসনকে অনুরোধ করেন, আইনগত সীমার মধ্যে কাজ করতে এবং কোনো প্রার্থীকে বিশেষভাবে সুবিধা বা বৈষম্য না দিতে। সকল প্রার্থীর প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি ও সমান আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা হলে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় থাকবে, এটাই তার মূল দাবি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সংস্থা সাধারণত সকল প্রার্থীকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। বিরোধী দলগুলোও ফারহানার বক্তব্যকে নজরে রাখছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষক দল গঠন করার কথা প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলেন, যদি নিরপেক্ষতা বজায় না থাকে, তবে ভোটারদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং ফলস্বরূপ ভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করা সহজ হয়ে যায়, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনি বিরোধের দিকে ধাবিত হতে পারে।
ফারহানা উল্লেখ করেন, তিনি এবং তার সমর্থকরা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন, তবে একই সঙ্গে প্রশাসনকে আইন মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়ে থাকবেন। তিনি আশাবাদী যে, সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ গড়ে তুলবে।
এই সতর্কতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে, বিশেষ করে যখন জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। যদি সরকার ও প্রশাসন ফারহানার চাহিদা মেনে চলে, তবে ৫ আগস্টের মতো অশান্তি এড়িয়ে গিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। অন্যথায়, অতীতের অশান্তি পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সর্বশেষে, রুমিন ফারহানা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন, এবং পুনরায় জোর দেন যে নিরপেক্ষতা না থাকলে ৫ আগস্টের স্মৃতি আবারও দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসতে পারে।



