বিএনপি রবিবার বিকালে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে, একটি অজানা রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে ঢাকা শহরে বহিরাগত ভোটার স্থানান্তরের কৌশল চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে। দলটি দাবি করে, এই ধরনের পদক্ষেপ তার প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দিতে পারে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করে।
বিএনপি উল্লেখ করে, ঐ দলটি বহিরাগত ভোটারদের ঢাকা শহরে স্থানান্তর করে তাদের ভোটের প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এ ধরনের কৌশল নির্বাচনী ন্যায়বিচারকে নষ্ট করে এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের সম্ভাবনা বাড়ায়।
এই প্রেক্ষাপটে, বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করে যে, স্থানান্তরিত ভোটারদের সম্পূর্ণ তথ্য শিগগিরই সরবরাহ করা হোক। ভোটার তালিকার সঠিকতা নিশ্চিত না হলে, ভোটের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিএনপি আরও অভিযোগ করে যে, ঐ দলের কর্মীরা ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। এ ধরনের কাজ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধের শ্রেণীতে পড়ে।
রবিবার বিকালে, আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিরা উপরে উল্লেখিত অভিযোগগুলো উপস্থাপন করেন।
বৈঠকের পর, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিডিয়ার সামনে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে, উপরে উল্লিখিত সমস্যাগুলোকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল পোস্টাল ব্যালটের বিষয়েও আপত্তি জানিয়ে, বর্তমান ব্যালট পেপারটি সঠিক নয় এবং এতে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, এক দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যেন সাধারণ ভোটের মতোই স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ হয়। ভোটারদের জন্য একই শর্তে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিএনপি দাবি করে, পোস্টাল ব্যালটের বরাদ্দের পরে তা সঠিকভাবে বিতরণ করা হোক। বরাদ্দের পরপরই ভোটারদের কাছে ব্যালট পৌঁছানো নিশ্চিত করা, ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং প্রক্রিয়ার বৈধতা বজায় রাখবে।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ভোটারদের এনআইডি কপি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধের শর্ত পূরণ করে। তিনি এ ধরনের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি পূর্বে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্থাপন করলেও, এখন তারা জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নির্বাচনের ন্যায়বিচারকে ক্ষতি হতে পারে।
অবশেষে, মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং সকলের জন্য সমান সুযোগের ভিত্তিতে পরিচালনা করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন, তবে অন্যান্য দলগুলো এখনও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাই, নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



