পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম রিঅ্যাক্টর ইউনিটে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে জ্বালানি লোডিং শেষ করার পরিকল্পনা সরকারীভাবে জানিয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ রোববার একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি গত শুক্রবার প্রকল্প সাইট পরিদর্শন করে অগ্রগতির সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের নির্মাণ কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ মানদণ্ডের পূর্ণ অনুসরণে কাজ চলছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি শেষের দিকে ইউনিট‑১-এ জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রকল্প দল আত্মবিশ্বাসী যে সময়সীমা মেনে চলা যাবে।
প্রাথমিকভাবে, মার্চের শেষের দিকে ইউনিট‑১ থেকে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করা হবে। এই প্রথম পর্যায়ের উৎপাদন দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতে বৃহত্তর ক্ষমতা অর্জনের ভিত্তি স্থাপন করবে।
দীর্ঘমেয়াদে, ইউনিট‑১ সম্পূর্ণ ক্ষমতা অর্জনের পর প্রায় ১,২০০ মেগাওয়াটের উৎপাদন সম্ভাবনা থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই ক্ষমতার প্রায় ১,১৫০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
পরিদর্শনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন ও বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সাইটে ছিলেন।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ১২.৬ বিলিয়ন ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ বিনিয়োগের সূচক। আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী মেনে নির্মাণ কাজের অগ্রগতি এবং রোসাটমের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রকল্পের সময়সূচি বজায় রাখতে মূল ভূমিকা পালন করছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সফল চালু হওয়া দেশের শক্তি মিশ্রণকে বৈচিত্র্যময় করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে। এই প্রেক্ষাপটে, বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।
আপনার মতামত কী? রূপপুরের প্রথম ইউনিটের সময়মতো চালু হওয়া দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা করুন।



